সনাতন ধর্মে দেবশয়নী একাদশীর (Devshayani Ekadashi) গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের এই পবিত্র তিথিতেই ক্ষীরসাগরে যোগনিদ্রায় গমনে যান জগৎপালক শ্রীবিষ্ণু। পাঁজি (Almanac) অনুযায়ী, এ বছর আগামী ২৫ জুলাই এই মহাব্রত পালিত হবে। বাংলা পঞ্জিকা মতে ১৭ জুলাই থেকে শ্রাবণ মাস শুরু হয়ে গেলেও দৃক পঞ্জিকা অনুযায়ী তখনও আষাঢ় মাস থাকবে। দেবশয়নী একাদশী তিথি থেকেই সূচনা হয় বিশেষ চার মাসের সময়কাল— চতুর্মাসের (Chaturmas)। এরপর কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দেবউত্থানী একাদশীর (Devotthan Ekadashi) দিন নারায়ণ যোগনিদ্রা থেকে জেগে উঠবেন এবং পুনরায় সংসারের সমস্ত দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। এ বছর আগামী ২০ নভেম্বর দেবউত্থানী একাদশী পালিত হবে।
চতুর্মাসের গুরুত্ব ও শাস্ত্রীয় বিধান
চতুর্মাসের এই চার মাসে বিবাহ, গৃহপ্রবেশ বা উপনয়নের (Thread Ceremony) মতো কোনো মাঙ্গলিক ও শুভ অনুষ্ঠান আয়োজন করা শাস্ত্রে নিষেধ। তবে এর ফলে দেবশয়নীর মাহাত্ম্য বিন্দুমাত্র হ্রাস পায় না। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতে পরম নিষ্ঠার সঙ্গে উপবাস (Fasting) পালন এবং বিষ্ণুর আরাধনা করলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি উপচে পড়ে, এমনকি মৃত্যুর পর মোক্ষলাভ বা পরমগতি লাভের পথ সুগম হয়। পুজো-অর্চনার সময়ে কিছু বিশেষ বিষ্ণুমন্ত্র পাঠ করলে নারায়ণ অত্যন্ত প্রসন্ন হন।
ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ৫টি জাদুকরী বিষ্ণুমন্ত্র
দেবশয়নী একাদশীর দিন ভক্তিভরে নিচের মন্ত্রগুলো (Mantras) জপ করলে শ্রীহরির অপার কৃপাদৃষ্টি লাভ করা যায়:
১. ‘ওঁ নমো নারায়ণায়ঃ’
২. ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’
৩. ‘ওঁ শ্রী বিষ্ণবে চ বিদ্মহে বাসুদেবায় ধীমহি। তন্নো বিষ্ণুঃ প্রচোদয়াত’
৪. ‘শান্তাকারং ভুজগশয়নং পদ্মনাভং সুরেশং। বন্দে বিষ্ণুং ভবভয়হরং সর্বলোকৈকনাথম’
৫. ‘মঙ্গলং ভগবান বিষ্ণুঃ, মঙ্গলং গরুড়ধ্বজঃ। মঙ্গলং পুণ্ডরীকাক্ষঃ, মঙ্গলায় তনো হরি’
ব্রত পারণের সঠিক সময়সূচি
একাদশীর কঠোর উপবাসের পরদিন ব্রত ভঙ্গ বা পারণ (Paran) করার নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। দেবশয়নী একাদশীর ব্রত পারণের শুভ সময় সকাল ৬টা ১৩ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। পারণের দিন দ্বাদশী (Dwadashi) তিথি শেষ হবে দুপুর ১টা ৫৭ মিনিটে। এর মধ্যেই সমস্ত শাস্ত্রীয় বিধি মেনে পারণ সম্পন্ন করা শুভ বলে বিবেচিত হয়।
কেন পালিত হয় চতুর্মাস?
পৌরাণিক কাহিনী (Mythology) অনুসারে, দেবশয়নী একাদশীর দিন বিশ্রাম নেওয়ার জন্য শ্রীবিষ্ণু দানবরাজ বলির পাতাললোকে গমন করেন এবং সেখানে চার মাস অবস্থান করেন। এই চার মাস তিনি সৃষ্টির কার্যভার থেকে সাময়িক বিরতি নেন। শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক— এই চার মাসের সমাহারই হলো চতুর্মাস। এই সময়ে ভক্তরা আত্মসংযম, জপ-তপ, ব্রত ও দানের মাধ্যমে ঈশ্বরের সাধনায় নিমগ্ন থাকেন। চতুর্মাসে নারায়ণের আরাধনা মানসিক শান্তি ও জীবনের সর্বক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য নিশ্চিত করে।