আজকালকার দিনে ফ্যাশন বা স্টাইলের (Fashion or Style) অঙ্গ হিসেবে আঙুলে হিরে বা অন্য কোনো রত্নখচিত আংটি পরার চল ব্যাপক হারে বেড়েছে। কারও কাছে এটি কেবলই বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়ানোর একটি মাধ্যম, আবার কারও কাছে তা সমাজে নিজের আর্থিক বা সামাজিক মর্যাদা (Social Status) জাহির করার প্রতীক। তবে সনাতন জ্যোতিষবিজ্ঞান কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। শাস্ত্র মতে, বহুমূল্য রত্নগুলো কেবলই কোনো সাধারণ অলঙ্কার বা গয়না নয়; প্রতিটি রত্নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নির্দিষ্ট গ্রহের মহাজাগতিক শক্তি। তাই অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো রত্ন ধারণ করলে উপকারের চেয়ে বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে।
বিশেষ করে হিরে, নীলা কিংবা লাল প্রবালের মতো রত্নগুলোকে জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শক্তিশালী (Powerful) বলে মনে করা হয়। সঠিক কোষ্ঠী বিচার করে এগুলো পরলে যেমন ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে, ঠিক তেমনই ভুল মানুষের হাতে পড়লে তা জীবনের চরম সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।
তিনটি শক্তিশালী রত্ন ও তাদের প্রভাব
কোন রত্ন মানবজীবনে কীরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. হিরে (Diamond): হিরেকে রূপ ও বৈভবের কারক গ্রহ শুক্রের (Venus) রত্ন বলা হয়। জ্যোতিষ মতে, শুক্র গ্রহ মানুষের জীবনে বিলাসিতা, জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং দাম্পত্য জীবনের সুখ নিয়ন্ত্রণ করে। আজকাল বিয়ের প্রস্তাব বা এনগেজমেন্টের (Engagement) সময় হিরের আংটি উপহার দেওয়ার একটি বড় চল তৈরি হয়েছে। কিন্তু জন্মছকে শুক্রের অবস্থান যদি অশুভ বা দুর্বল থাকে, তবে প্রেমের প্রতীক এই হিরেই আপনার জীবনের কাল হতে পারে। এর ফলে দাম্পত্য কলহ, তীব্র মানসিক চাপ (Mental Stress), উদ্বেগ এবং সম্পর্কে চিরস্থায়ী ফাটল ধরার আশঙ্কা থাকে।
২. নীলা (Blue Sapphire): কর্মফলের দেবতা শনিদেবের রত্ন হলো নীলা। জ্যোতিষীদের বিশ্বাস, নীলা খুব দ্রুত তার প্রতিক্রিয়া বা ফল (Result) দেখায়। শনির কৃপা পাওয়ার আশায় অনেকেই এটি পরেন। কিন্তু রাশিচক্রে শনি যদি প্রতিকূল অবস্থানে থাকে, তবে নীলা পরার সাথে সাথেই কর্মজীবনে বিপর্যয়, ব্যবসায় আকস্মিক লোকসান, চাকুরিক্ষেত্রে ঘোর অনিশ্চয়তা কিংবা পরিবারে চরম অশান্তি নেমে আসতে পারে। এমনকি হঠাৎ বড় কোনো দুর্ঘটনার (Accidents) আশঙ্কাও তৈরি হয়।
৩. লাল প্রবাল (Red Coral): লাল প্রবাল সরাসরি যুক্ত পরাক্রমশালী মঙ্গল গ্রহের (Mars) সাথে। মঙ্গলকে সাধারণত সাহস, শক্তি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক ধরা হয়। অনেকেই নিজের ভেতরের জড়তা কাটাতে ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে প্রবাল ধারণ করেন। তবে কোষ্ঠীতে মঙ্গলের অবস্থান খারাপ হলে, এই পাথর পরার পর মানুষের ক্রোধ, অতিরিক্ত উত্তেজনা ও মানসিক অস্থিরতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এর প্রভাবে আইনি জটিলতা (Legal Issues), পারিবারিক বিবাদ এবং অনর্থক আর্থিক টানাটানি নিত্যদিনের সঙ্গী হতে পারে।
রত্ন ধারণের ক্ষেত্রে কখনোই অন্ধ অনুকরণ বা নিছক ফ্যাশনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। যেকোনো রত্ন ধারণ করার পূর্বে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর দ্বারা নিজের জন্মছক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার করিয়ে নেওয়া জরুরি। কারণ সঠিক রত্ন আপনার জীবনে যেমন আশীর্বাদ আনতে পারে, তেমনই ভুল রত্ন ডেকে আনতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়।