মহাজাগতিক ও জ্যোতিষীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ২০২৬ সালের অগস্ট মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, এই মাসের ১৫ দিনের ব্যবধানেই ঘটে চলেছে দুটি গ্রহণ— প্রথমে সূর্যগ্রহণ এবং তার পরপরই চন্দ্রগ্রহণ। আগামী ২৮ অগস্ট শ্রাবণী পূর্ণিমা বা রাখি বন্ধনের (Rakhi Bandhan) বিশেষ দিনে সংঘটিত হতে চলেছে এই বছরের অন্তিম চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipse)। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, একই দিনে উৎসব এবং গ্রহণের এই বিরল সংযোগ নির্দিষ্ট কিছু রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে।
গ্রহণের সময় ও ভারত থেকে দৃশ্যমানতা
ভারতীয় সময় (IST) অনুযায়ী, ২৮ অগস্ট সকাল ৬টা ৫৩ মিনিটে চাঁদে গ্রহণ লাগবে এবং তা চলবে দুপুর ১২টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ, মোট ৫ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ব্যাপী স্থায়ী হবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য। তবে গ্রহণের সময় ভারতে দিন থাকায় আমাদের দেশ থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা যাবে না। এটি মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশ থেকে দৃশ্যমান হবে।
যেহেতু ভারতে এই গ্রহণ দৃশ্যমান হচ্ছে না, তাই শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সূতক কাল (Sutak Period) কার্যকর হবে না। ফলস্বরূপ, রাখির উৎসবে কোনো বাধা থাকছে না। বোনেরা নির্দ্বিধায় তাঁদের ভাইদের হাতে রাখি বাঁধতে পারবেন এবং শ্রাবণ পূর্ণিমার প্রথা মেনে স্নান, দান ও পূজার্চনাও করা সম্ভব হবে।
পাঁচ রাশিতে অশুভ প্রভাবের আশঙ্কা
অগস্টের এই চন্দ্রগ্রহণটি সংঘটিত হবে কুম্ভ রাশি (Aquarius) ও শতভিষা নক্ষত্রে (Shatabhisha Nakshatra)। রাহুর প্রভাব যুক্ত এই শতভিষা নক্ষত্র ও কুম্ভ রাশি— উভয়েরই অধিপতি গ্রহ হলেন শনিদেব। এছাড়া একই সময়ে সূর্য ও ছায়া গ্রহ কেতু সিংহ রাশিতে অবস্থান করবে। এই জটিল মহাজাগতিক পরিস্থিতির কারণে মূলত ৫টি রাশির জাতকদের ওপর তীব্র প্রতিকূল প্রভাব পড়তে পারে।
এই বিপজ্জনক তালিকায় রয়েছে: কর্কট, সিংহ, বৃশ্চিক, মকর এবং কুম্ভ রাশি।
গ্রহণ চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে এই রাশিগুলির জাতক-জাতিকারা অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেসে (Stress) ভুগতে পারেন। অনেকের মধ্যে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া (Insomnia) এবং তীব্র মানসিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি, ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির (Financial Loss) ঝুঁকি থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।