দিন যত যাচ্ছে, শহরাঞ্চলে মানুষের থাকার জায়গা বা স্থানাভাব ততই প্রকট হয়ে উঠছে। চার দেওয়ালের ছোট ফ্ল্যাটই (Flat) এখন অধিকাংশ মানুষের ঠিকানা। একদিকে জায়গার অভাব, অন্যদিকে আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা— এই দুইয়ের জেরে ইচ্ছে থাকলেও বাড়িতে আসল গাছ লাগিয়ে তার নিয়মিত পরিচর্যা করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। বারান্দার টবে জল দেওয়া, নিয়মিত সার দেওয়া কিংবা রোদে রাখার মতো সময় যাঁদের নেই, তাঁরা ঘরকে সবুজ দেখাতে বেছে নেন প্লাস্টিক বা কাপড়ের তৈরি কৃত্রিম গাছ। কিন্তু অন্দরসজ্জার (Interior Decoration) জন্য এই কৃত্রিম গাছ রাখা কি আদৌ বাস্তুসম্মত? বাস্তু বিশেষজ্ঞরা কিন্তু এই বিষয়ে কিছু জরুরি সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।
আসল বনাম কৃত্রিম: সতেজতা ও প্রাণহীনতার লড়াই
ভারতীয় সংস্কৃতি এবং বাস্তুশাস্ত্রে গাছকে সবসময় উন্নতি, প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির প্রতীক বলে মনে করা হয়। আসল গাছ বাড়িতে অক্সিজেনের (Oxygen) প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশে এক অদ্ভুত সতেজতা ও মানসিক শান্তি নিয়ে আসে। বিশেষ করে তুলসী, মানি প্ল্যান্ট বা লাকি ব্যাম্বুর মতো গাছ বাড়িতে রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
অন্যদিকে, কৃত্রিম গাছ (Artificial Plants) দেখতে যতই আকর্ষণীয় বা আসল গাছের মতো হোক না কেন, তা আসলে প্রাণহীন। এগুলো কোনো প্রাকৃতিক বা ইতিবাচক শক্তির (Positive Energy) উৎস হতে পারে না। তাই কৃত্রিম গাছ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাস্তুর নিয়ম না মানলে তা ঘরের পরিবেশকে নেতিবাচক করে তুলতে পারে।
কৃত্রিম গাছ রাখার জরুরি বাস্তু নিয়ম
যদি ঘর সাজাতে কৃত্রিম গাছ ব্যবহার করতেই হয়, তবে সংসারের সুখ-শান্তি বজায় রাখতে নিচের সতর্কতাগুলো (Precautions) মেনে চলুন:
সংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ: যেহেতু কৃত্রিম গাছ শুভ শক্তির উৎস নয়, তাই পুরো ঘর প্লাস্টিকের গাছে ভরিয়ে দেবেন না। শখ মেটাতে বড়জোর ২-১টি কৃত্রিম গাছ ব্যবহার করা যেতে পারে।
শোওয়ার ঘর এড়িয়ে চলুন: বেডরুমে (Bedroom) কৃত্রিম গাছ রাখা একেবারেই উচিত নয়। এতে ঘরের পরিবেশ অযথা ভারী ও কৃত্রিম হয়ে ওঠে, যা সম্পর্কের স্বাভাবিক মাধুর্য নষ্ট করতে পারে।
প্রধান প্রবেশদ্বারে নিষেধাজ্ঞা: বাড়ির মূল দরজার (Main Entrance) সামনে কখনোই কৃত্রিম গাছ রাখবেন না। এই স্থান দিয়েই ঘরে মূল ইতিবাচক শক্তি প্রবেশ করে, সেখানে প্রাণহীন বস্তু রাখা বাস্তুসম্মত নয়।
পরিচ্ছন্নতা ও গুণমান: বাড়িতে রাখার জন্য সবসময় ভালো কোয়ালিটির (Quality) কৃত্রিম গাছ কিনুন, যা দেখতে যেন একদম সজীব মনে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই গাছগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। ধুলো জমে থাকলে তা নেতিবাচকতা বাড়ায়। গাছের রং চটে গেলে বা পাতা ভেঙে গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন।
কাঁটাযুক্ত গাছ বর্জন: কৃত্রিম ক্যাকটাস বা কোনো কাঁটাযুক্ত কৃত্রিম গাছ ঘরে রাখবেন না। ঘরকে বাস্তুমুক্ত ও সুন্দর রাখতে কৃত্রিম গাছের পাশাপাশি অন্তত দু-একটি আসল ছোট গাছ রাখার চেষ্টা করুন।