চার দেওয়ালে দমবন্ধ ভাব? শত্রুর ‘বাস্তুবন্ধনে’ মারণ ফাঁদে পড়েননি তো?
ঘরের চার দেওয়ালে পা রাখলেই কি এক অদ্ভুত দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে? মনে হয় নিজের সাধের গৃহটি যেন কোনো খাঁচা, যেখানে আপনি বন্দি হয়ে আছেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেই না বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে বাইরে পা রাখা, অমনি সব কষ্ট হাওয়া! মন এক নিমেষে হালকা হয়ে যায় এবং শরীরও চাঙ্গা বোধ করে। এমন অদ্ভুত অভিজ্ঞতা কি আপনার সঙ্গেও ঘটছে? এর পাশাপাশি যদি পরিবারে প্রতিনিয়ত ঝগড়া, ব্যবসায় আকস্মিক মন্দা কিংবা পোষা বিড়ালের আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন, তবে সাবধান! বাস্তুশাস্ত্র বলছে, আপনার অজান্তেই হয়তো কোনো শত্রু আপনার সাধের বাস্তুটি তান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বেঁধে ফেলেছে।
তন্ত্রের অন্ধকার অধ্যায়: কী এই ‘বাস্তুবন্ধন’?
জ্যোতিষ ও তান্ত্রিক পরিভাষায় একে বলা হয় ‘বাস্তুবন্ধন’ (Vastu Bandhan), যা তান্ত্রিক ক্রিয়ার এক অন্ধকার অধ্যায়। কুটিল শত্রুরা কোনো তান্ত্রিকের সাহায্য নিয়ে এই অনৈতিক কাজ করে থাকে। এর পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ কিন্তু মারাত্মক। আপনার বাড়ির একমুঠো মাটি শত্রুর হাতে পড়লেই তারা সেই মাটির ওপর কুফরি বা চালানি ক্রিয়া (Black Magic) করে আপনার জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
শাস্ত্র মতে, প্রেত বা অশরীরী শক্তি চালানের মাধ্যমে একটি বাড়ির চারপাশকে নেতিবাচক বলয় দিয়ে ঘিরে ফেলা সম্ভব। আবার মন্ত্রপূত কলসি বা কোনো অশুভ উপাদান মাটিতে পুঁতেও এই বন্ধন করা হয়। বাড়ির উঠোনে বা আশেপাশে শ্মশানের ছাই, মড়ার হাড়, কড়ি কিংবা খই ফেলে দিয়ে নেতিবাচক শক্তির (Negative Energy) খেলা শুরু করা যায়। অনেকে আবার রাতের অন্ধকারে দরজার সামনে লাল ফুল ছড়িয়ে বা মাটিতে খড়ি দিয়ে গণ্ডি কেটে তন্ত্রের অশুভ শক্তিকে সক্রিয় করে।
আজকালকার চতুর শত্রুরা আরও এক কাঠি ওপরে। তারা সুযোগ বুঝে আপনার বসার ঘরের জানলা বা পর্দার স্টিলের পাইপের ভেতরে মন্ত্রপূত কাপড়ের টুকরো, কচ্ছপের খোলস কিংবা রুই মাছের কানকো লুকিয়ে রেখে আসতে পারে। আবার কেউ ছাদে উঠে জলের ট্যাঙ্কের (Water Tank) ভেতরেও অশুভ জিনিস ফেলে দিতে পারে। সেই দূষিত জল মাথায় পড়লেই মানুষের বুদ্ধিভ্রম ঘটে। এই অশুভ শক্তির করাল গ্রাস থেকে গৃহকর্তার সহজে মুক্তি মেলে না। এমনকি অনেক সময় নতুন ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার পরেও মানুষের জীবনে আকস্মিক বিপর্যয় (Disaster) নেমে আসে এই একই কারণে।
কীভাবে বুঝবেন আপনি এই মারণ ফাঁদে পড়েছেন?
বাস্তুশাস্ত্রে এই বন্ধনের কিছু স্পষ্ট লক্ষণ বা সিম্পটম (Symptoms) উল্লেখ করা হয়েছে:
১. অজানা ভয়: বাড়িতে প্রবেশ করলেই এক অজানা আতঙ্ক এবং তীব্র দুশ্চিন্তা বা অবসাদ গ্রাস করবে। ২. মনোযোগের অভাব: কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা পড়াশোনায় মন বসানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। ৩. কাজে বাধা: প্রতিটি শুভ কাজে শেষ মুহূর্তে বাধা আসবে এবং তা পণ্ড (Spoiled) হয়ে যাবে। ৪. পারিবারিক কলহ: পরিবারের সদস্যরা কারণে-অকারণে একে অপরের চরম শত্রু হয়ে উঠবেন। ৫. আর্থিক ও আইনি সংকট: অনর্থক আর্থিক ক্ষতি (Financial Loss) এবং জটিল আইনি সমস্যা পিছু ছাড়বে না। ৬. প্রকৃতির অনীহা: বাড়ির গাছের সতেজতা হারিয়ে যাবে এবং ফুল-ফল ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। ৭. পশুপাখির আচরণ: কোনো মুক্ত পশুপাখি বা অতিথি পাখি আপনার বাড়ির ছায়া মাড়াতে চাইবে না।
তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অযথা আতঙ্কিত বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে সঠিক সময়ে এই বাস্তুবন্ধন খণ্ডন বা কাটানো (Remedy) সম্ভব হলে আবারও গৃহে আগের মতো সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়। তাই নতুন কোনো ফ্ল্যাট (Flat) বা বাড়ি কেনার আগে বা নতুন গৃহে প্রবেশের আগে থেকেই এই বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।