হতদরিদ্র পরিবারে জন্মালেও কোটিপতি হয়ে ওঠেন এই ব্যক্তিরা, হাতের একটি চিহ্নই তার প্রমাণ
আমাদের চারপাশের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা অত্যন্ত সাধারণ বা আর্থিক ভাবে অনগ্রসর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজেদের ভাগ্য এবং কঠোর পরিশ্রমের জোরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে যান। হস্তরেখা শাস্ত্র বা পামিস্ট্রি (Palmistry) অনুযায়ী, একজন মানুষের এই রাজকীয় উত্থান এবং কোটিপতি হয়ে ওঠার রহস্য লুকিয়ে থাকে তাঁর হাতের তালুতেই। জ্যোতিষশাস্ত্রে ছায়াগ্রহ হিসেবে পরিচিত কেতুকে (Ketu) মূলত মোক্ষ, বৈরাগ্য ও আধ্যাত্মিকতার কারক মনে করা হলেও, হাতের তালুর ‘কেতু পর্বত’ (Mount of Ketu) কোনো ব্যক্তির ভাগ্য এবং অভাবনীয় সাফল্যের এক প্রধান নির্দেশক।
হাতের কোথায় থাকে কেতু পর্বত?
হস্তরেখা বিজ্ঞান অনুযায়ী, হাতের কবজির ঠিক ওপরের অংশে এবং শুক্র পর্বত (Mount of Venus) ও চন্দ্র পর্বতের (Mount of Moon) ঠিক মধ্যবর্তী স্থানে কেতু পর্বতের অবস্থান। সাধারণত ভাগ্যরেখার (Fate Line) শুরুর দিকের অংশেই এই পর্বতটিকে লক্ষ করা যায়। মানুষের জীবনে বিশেষ করে ৫ বছর বয়স থেকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত এই কেতুর প্রভাব অত্যন্ত সক্রিয় (Active) থাকে। হাতের এই অংশটি যদি স্বাভাবিক ভাবে উঁচু, মসৃণ ও সুগঠিত হয়, তবে তাকে অত্যন্ত শুভ লক্ষণ বলে মনে করা হয়।
উন্নত কেতু পর্বত ও স্পষ্ট ভাগ্যরেখার ম্যাজিক
যাঁদের হাতের তালুতে কেতু পর্বতটি বেশ উন্নত ও সুস্পষ্ট থাকে এবং তার ওপর দিয়ে একটি গভীর ও পরিষ্কার ভাগ্যরেখা চলে যায়, তাঁরা মূলত ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদপ্রাপ্ত হন।
অভাব জয় করে কোটিপতি: হস্তরেখা শাস্ত্র বলে, এই ধরনের শুভ যোগের জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত দরিদ্র বা আর্থিক ভাবে দুর্বল (Financially Weak) পরিবারে জন্মালেও তাঁদের ভাগ্য থমকে থাকে না। তাঁরা নিজেদের কঠোর পরিশ্রম এবং ভাগ্যের অসামান্য সহায়তায় জীবনের সমস্ত বাধা টপকে বিপুল ধনসম্পদ ও প্রতিষ্ঠার (Fame) মালিক হয়ে ওঠেন।
সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ: ভাগ্য সবসময় এঁদের অনুকূলে থাকে এবং এরা জীবনের সমস্ত ধরনের বস্তুগত ও আত্মিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করেন।
পর্বত ও রেখার অন্যান্য অবস্থান কী বলে?
কেতু দুর্বল কিন্তু ভাগ্যরেখা শক্তিশালী: যদি কোনো ব্যক্তির হাতের কেতু পর্বতটি খুব বেশি উন্নত বা উঁচু না হয়, কিন্তু তাঁর ভাগ্যরেখাটি গভীর ও শক্তিশালী হয়, তবে সেই ব্যক্তিকে জীবনের শুরুর দিকে বেশ কিছু সংগ্রাম ও সমস্যার (Challenges) মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এঁদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা দরকার। এদের জীবনে সাফল্য এলেও তা কিছুটা দেরিতে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আসে।
দুই-ই যখন দুর্বল: হস্তরেখাবিদদের মতে, হাতের কেতু পর্বত এবং ভাগ্যরেখা— দুটিই যদি অত্যন্ত দুর্বল ও অস্পষ্ট হয়, তবে তাকে জ্যোতিষশাস্ত্রে অশুভ মনে করা হয়। এই ধরনের মানুষদের শৈশব থেকেই তীব্র আর্থিক অনটন এবং পারিবারিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এমনকি তাঁদের স্বাস্থ্য বা শারীরিক অবস্থার (Health Status) মধ্যেও ঘন ঘন ওঠানামা দেখা দেয়। তবে শাস্ত্র বলছে, সঠিক অধ্যবসায় এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখলে এই অশুভ ফলও ধীরে ধীরে খণ্ডন করা সম্ভব।