আজকের ডিজিটাল যুগে ওয়াশরুমে ফোন নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস (habit) কমবেশি আমাদের অনেকেরই রয়েছে। কমোডে বসেই সামাজিক মাধ্যমের দেওয়াল (social media scroll) হাতড়ানো, মেসেজের জবাব দেওয়া কিংবা অফিসের জরুরি ইমেইলের উত্তর (mail reply) দেওয়ার কাজ সেরে নেন অনেকে। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসকে অত্যন্ত সাধারণ ও নিরীহ মনে হলেও, বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বড় বিপদ। বাথরুমে স্মার্টফোন ব্যবহার আপনার জীবনীশক্তি হ্রাস (energy loss), মনঃসংযোগে বাধা এবং মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কেন বাথরুমে ফোন নিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক?
বাস্তুবিদদের মতে, দিনের শুরুতে ঘুম থেকে ওঠার পর যখন আমরা প্রথমবার ওয়াশরুম যাই, সেই সময় মোবাইল সঙ্গে রাখা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। আধুনিক যুগে বাথরুম যতই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বা বিলাসবহুল (luxurious) হোক না কেন, বাস্তুমতে সেখানে নেতিবাচক শক্তির (negative energy) প্রভাব থাকবেই। এই অশুভ স্থানে স্মার্টফোন নিয়ে যাওয়া মানে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে নেতিবাচকতার সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া। কমোডে বসে দিন শুরু করলে মানুষের উৎপাদনশীলতা (productivity) ও মানসিক স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে দিনের শুরুতেই এক ধরণের ডিজিটাল বিষাক্ততা (digital toxicity) আপনাকে গ্রাস করে।
সময়ের অপচয় ও মানসিক অস্থিরতা
বাস্তুশাস্ত্র বলছে, দিনের শুরুতে মনকে শান্ত ও সংযত রাখা উচিত এবং নিজের সাথে কিছুটা একান্ত সময় (me time) কাটানো দরকার। কিন্তু তার বদলে সকাল সকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলে মন চঞ্চল ও অস্থির হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ধরণের ভালো-মন্দ খবর দেখার ফলে মনের ভেতর সংশয় ও উদ্বেগ (anxiety) তৈরি হয়।
এর পাশাপাশি রয়েছে সময়ের অপচয়। ফোন স্ক্রল করতে করতে আমরা সময়ের হিসাব (time management) হারিয়ে ফেলি। ১০ মিনিটের কাজ কখন আধঘণ্টা পার করে দেয়, তা টেরই পাওয়া যায় না। ফলস্বরূপ, দিনের শুরুতেই সমস্ত কাজে দেরি হয়ে যায়, যা পুরো দিনের রুটিনকে নষ্ট করে দেয়।
স্মার্টফোনের সাথে জড়িয়ে আছে আপনার অর্থ ও ভাগ্য!
বর্তমান যুগে স্মার্টফোন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি সরাসরি অর্থের সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত। ডিজিটাল লেনদেনের (digital payment) এই সময়ে আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট (digital wallet), বিজনেস প্ল্যাটফর্ম এবং ক্যারিয়ার সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই ফোনেই থাকে।
বাস্তুর বিশেষ তত্ত্ব: যেহেতু সমস্ত আর্থিক লেনদেন এখন ফোনের মাধ্যমে হয়, তাই বাস্তুশাস্ত্রে স্মার্টফোনকে সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর (Goddess Lakshmi) প্রতীক বা তাঁর সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। আমরা যেমন কখনোই নগদ টাকা (cash) নিয়ে ওয়াশরুমে যাই না, ঠিক একই যুক্তিতে টাকা ও ভাগ্যের প্রতীক এই স্মার্টফোনকেও ওয়াশরুমে নিয়ে যাওয়া চরম অশুভ।