সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলেই অনেকের প্রথম কাজ হাত বাড়িয়ে স্মার্টফোনটি (Smartphone) তুলে নেওয়া। এমনকি শৌচাগার বা বাথরুমে (Bathroom) যাওয়ার সময়েও মোবাইলটিকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস আজকালকার আধুনিক জীবনের এক অভিন্ন অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আপনার এই নিত্যদিনের অভ্যাসটিই যে অগোচরে জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা কি জানেন? বাস্তুশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ জয় মাদানের (Jai Madaan) মতে, শৌচাগারে মোবাইল ব্যবহারের এই স্বভাবটি মানসিক, শারীরিক এবং বাস্তুগত দিক থেকে দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় এই অভ্যাসের কুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি।
শৌচাগারের শক্তি ও মনোযোগে ব্যাঘাত
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, শৌচাগার হলো শরীর পরিষ্কার করা এবং অপদ্রব্য বা বর্জ্য নিষ্কাশনের স্থান। শাস্ত্রের পরিভাষায় এই জায়গার সঙ্গে একটি ভারী এবং নিষ্ক্রিয় শক্তি (Passive Energy) জড়িয়ে থাকে। তাই দিনের শুরুতেই ওই স্থানে বসে মোবাইল স্ক্রোল (Scroll) করা কিংবা কাজের খবর পড়া মানসিকভাবে একেবারেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
জয় মাদান জানান, অনেকেই সকালে বাথরুমে বসে খবরের আপডেট দেখেন বা বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে ডুবে থাকেন। এর ফলে দিনের শুরুতেই মানসিক একাগ্রতা নষ্ট হয়। এতে মানুষের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা (Creative Thinking) এবং কাজের প্রতি উদ্যম বা কর্মশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি দিনের শুরুতেই মন অমনোযোগী হয়ে পড়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
মোবাইল এখন আধুনিক ‘অর্থভাণ্ডার’: বাস্তুর দৃষ্টিভঙ্গি
বাস্তুশাস্ত্রের নিরিখে জয় মাদান ব্যাখ্যা করেছেন যে, বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন কেবল কোনো বার্তা আদানপ্রদানের বা যোগাযোগের মাধ্যম (Medium of Communication) নয়। এর মাধ্যমে আমাদের আর্থিক লেনদেন (Financial Transactions), অত্যন্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদানপ্রদান এবং নিত্যনতুন সব সম্ভাবনার পথ খোলা থাকে। তাই এক দিক থেকে দেখতে গেলে, মোবাইল ফোনটি প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত অর্থভাণ্ডার এবং উন্নতির এক বিশেষ প্রতীক। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসকে অশুচি ও ভারী শক্তির স্থানে ব্যবহার করা বাস্তুসম্মত নয়।
বাস্তবতার নিরিখেও দেখা যায়, হাতে মোবাইল থাকলে শৌচাগারে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সময় কেটে যায়। এতে কেবল সময়ের অপচয়ই (Waste of Time) হয় না, বরং পুরো দিনের কাজের নির্ধারিত ছন্দ ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। তাই বাস্তু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জীবনের মানসিক ভারসাম্য, মনোযোগ ও স্থায়িত্ব বজায় রাখতে অন্তত শৌচাগারে ফোন ব্যবহার করা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। কারণ সকালের শুরুটা কতটা ইতিবাচক হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে আপনার পুরো দিনের সফলতা।