মহাজাগতিক জ্যোতিষচক্রে মঙ্গলকে গণ্য করা হয় দেব সেনাপতি হিসেবে। বৈদিক জ্যোতিষ (Vedic Astrology) অনুযায়ী, শারীরিক শক্তি, রক্তের তেজ, অনমনীয় সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং পরাক্রমের মূল নিয়ন্ত্রক হলেন এই রক্তিম গ্রহ। কেবল সাহসিকতাই নয়, জমিজমা বা সম্পত্তি (Property) এবং ভ্রাতৃসুখের কারক গ্রহ হিসেবেও মঙ্গলের ভূমিকা অপরিসীম। তবে কোনো কারণে জন্মছক বা কোষ্ঠীতে যদি এই মঙ্গল গ্রহ তাঁর নিজস্ব তেজ ও শক্তি হারিয়ে ফেলে, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মঙ্গল নিস্তেজ হলে কী কী লক্ষণ প্রকাশ পায়?
কোষ্ঠীতে মঙ্গলের অবস্থান দুর্বল হলে মানুষের স্বভাব ও ভাগ্যে নানাবিধ অমঙ্গল দেখা যায়:
আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি: হঠাৎ করেই মানুষের আত্মবিশ্বাস (Self-confidence) কমতে শুরু করে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা লোপ পায়।
চণ্ডাল রাগ ও কাজে বাধা: তুচ্ছ কারণে অতিরিক্ত মেজাজ হারানো বা অনিয়ন্ত্রিত রাগ এবং কর্মক্ষেত্রে পদে পদে বাধার মুখোমুখি হওয়া দুর্বল মঙ্গলের স্পষ্ট লক্ষণ।
বিবাদ ও দুর্ঘটনা: জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি জটিলতা (Legal Disputes), পারিবারিক অশান্তি এবং ঘনঘন রক্তপাত বা দুর্ঘটনার (Accidents) কবলে পড়াও নিস্তেজ মঙ্গলের অশনি সংকেত।
মঙ্গলের শুভত্ব ও তেজ ফেরানোর সহজ উপায়
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কিছু সহজ শাস্ত্রীয় আচার ও জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে মঙ্গলের শুভ প্রভাব ফিরিয়ে আনা সম্ভব:
১. হনুমানজির সাধনা: প্রতি মঙ্গলবার নিয়ম করে হনুমান চালিশা (Hanuman Chalisa), বজরং বান অথবা সুন্দরকাণ্ড পাঠ করুন। পবনপুত্রের কৃপায় মঙ্গলের অশুভ প্রভাব দূর হয়ে শুভত্বে রূপান্তরিত হয়। ২. মঙ্গল বীজমন্ত্র জপ: শ্রদ্ধার সঙ্গে মঙ্গলের শক্তিশালী বীজমন্ত্র— ‘ওঁ ক্রাঁ ক্রীঁ ক্রৌঁ সঃ ভৌমায় নমঃ’ প্রতি মঙ্গলবার অন্তত ১০৮ বার অথবা প্রতিদিন জপ করলে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। ৩. দান-ধ্যান: মঙ্গলবার লাল মুসুর ডাল, গুড়, তামা বা লাল রঙের বস্ত্র অসহায় কোনো মানুষের হাতে তুলে দিন। এই ধরনের দান গ্রহদোষ খণ্ডনে সাহায্য করে। ৪. জীবসেবা ও অন্নদান: মঙ্গলবার বাঁদরকে গুড়-ছোলা খাওয়ানো কিংবা দুস্থ মানুষকে অন্নদান করা অত্যন্ত পুণ্যকর্ম বলে বিবেচিত হয়। ৫. দেব সেনাপতি কার্তিকেয় পূজা: স্কন্দ ষষ্ঠী বা যেকোনো মঙ্গলবারে বীরত্বের প্রতীক কার্তিকের আরাধনা করলে ভেতরের ভয় কেটে যায় ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ৬. জীবনযাত্রায় বদল: রাগ সংবরণ করা, কাজ সময়ে শেষ করা এবং নিয়মিত শারীরিক কসরত বা শরীরচর্চা (Exercise) হলো মঙ্গলকে জাগ্রত করার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
প্রয়োজনে অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ নিয়ে কোষ্ঠী বিচারপূর্বক লাল প্রবাল (Red Coral) ধারণ করা যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন, গ্রহের অবস্থান ছকভেদে ভিন্ন হয়, তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।