সাদা ও উজ্জ্বল মুক্তোকে (Pearl) সাধারণত শান্তি, সুষমা ও মানসিক স্থিরতার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কারণে অনেকেরই ধারণা, চটজলদি রাগ কমাতে বা মনকে শান্ত রাখতে মুক্তো ধারণ করলেই দারুণ উপকার মিলবে। বাজারে এটি খুব সহজে পাওয়া যায় বলে অনেকেই কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ ছাড়াই রুপোর আংটিতে মুক্তো বসিয়ে আঙুলে পরে নেন। তবে জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) বলছে, মুক্তো বাইরে থেকে যতটা শান্ত দেখায়, মানুষের মন ও মানসিক অবস্থার ওপর এটি ততটাই শক্তিশালী এবং গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সর্বোপরি, এই রত্নটি কিন্তু সবার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।
মুক্তো ও চন্দ্রের নিবিড় সংযোগ
জ্যোতিষশাস্ত্রে মুক্তোর সঙ্গে চন্দ্র বা চাঁদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। চাঁদকে মানুষের মন, আবেগ, অনুভূতি এবং মানসিক ভারসাম্যের (Mental Balance) কারক গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণে কারও জন্মছকে বা কোষ্ঠীতে চাঁদের অবস্থান অনুকূল না হলে কিংবা ব্যক্তির স্বভাব বিশেষ ধরনের হলে, মুক্তো ধারণের ফলে উপকারের বদলে উল্টো সমস্যা বাড়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।
কাদের জন্য মুক্তো ধারণ হতে পারে বিপজ্জনক?
জ্যোতিষবিদদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য মুক্তো পরা হিতে বিপরীত হতে পারে:
অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ব্যক্তি: যাঁরা খুব বেশি সংবেদনশীল বা ইমোশনাল (Emotional), অল্পতেই কষ্ট পান কিংবা ছোটখাটো ঘটনাতেই ভেঙে পড়েন, তাঁদের জন্য মুক্তো অনুকূল নাও হতে পারে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি মানুষের আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে, যার ফলে দুঃখ, হতাশা বা মানসিক অস্থিরতা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
উগ্র মেজাজের মানুষ: অনেকেই ভাবেন মুক্তো রাগ কমায়। তবে জ্যোতিষবিদদের একাংশের মতে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এর প্রভাব একেবারে উল্টো হতে পারে। ফলে রাগ, বিরক্তি বা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে, যা পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের (Relationships) ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মানসিক অবসাদে ভুগছেন যাঁরা: যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ (Anxiety) বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মুক্তো ধারণের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যদি জন্মছকে চাঁদ রাহু, কেতু বা অন্য কোনো ক্রূর ও অশুভ গ্রহের (Malefic Planets) প্রভাবে দুর্বল অবস্থায় থাকে, তবে মুক্তো পরলে মানসিক অস্থিরতা, অজানা ভয়, প্যানিক অ্যাটাক কিংবা অনিদ্রার (Insomnia) মতো সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই শুধুমাত্র অন্যকে দেখে বা লোকমুখে শুনেই হুট করে মুক্তো ধারণ করা উচিত নয়। যেকোনো রত্ন (Gemstone) পরার আগে অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর মাধ্যমে নিজের জন্মছক পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।