Prasanta Sastri

Vastu

সিঁড়ির নীচের ফাঁকা জায়গায় বাথরুম? সংসারে অশান্তি এড়াতে আজই বদলে ফেলুন এই বাস্তু নিয়ম

সিঁড়ির নীচের ফাঁকা জায়গায় বাথরুম? সংসারে অশান্তি এড়াতে আজই বদলে ফেলুন এই বাস্তু নিয়ম

আধুনিক গৃহনির্মাণে জায়গার সদ্ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকেই একটি বড় ভুল করে বসেন। বহুতল বাড়ি বা ফ্ল্যাটে স্থানাভাবের কারণে কিংবা প্রতিটি তলায় অতিরিক্ত সুবিধার কথা চিন্তা করে সিঁড়ির নীচের ফাঁকা জায়গায় টয়লেট বা বাথরুম (Bathroom) তৈরি করার প্রবণতা ইদানীং বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাস্তুবিজ্ঞান (Vastu Science) অনুযায়ী, বাড়ি তৈরির সময় সঠিক দিক ও স্থানের মেলবন্ধন অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। সিঁড়ির নীচে কোনো বাছবিচার না করে শৌচালয় বানালে তা পরিবারে মারাত্মক বাস্তুদোষের সৃষ্টি করতে পারে, যার কুপ্রভাব পড়ে সদস্যদের মানসিক শান্তি ও প্রগতির ওপর। তবে যদি বাধ্য হয়ে এই স্থানে বাথরুম করতেই হয়, তবে কিছু নিয়মের সঠিক পরিকল্পনা ও দিক নির্বাচন করলে এই দোষের তীব্রতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

দিক মেনে মেঝের উচ্চতা নির্ধারণ

বাস্তুশাস্ত্র মতে, সিঁড়ির নীচের বাথরুমটি বাড়ির কোন কোণে অবস্থিত, তার ওপর নির্ভর করে এর নির্মাণশৈলী কেমন হওয়া উচিত:

  • উত্তর, পূর্ব ও ঈশান কোণ: যদি সিঁড়ির নীচের অংশটি উত্তর, পূর্ব বা ঈশান (উত্তর-পূর্ব) কোণে থাকে এবং সেখানে বাথরুম তৈরি করা হয়, তবে ওই অংশের মেঝের উচ্চতা (Height) বাকি ঘরের মেঝের সমান রাখা উচিত। প্রয়োজনে সামান্য নিচুও করা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অংশের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা ড্রেনেজ সিস্টেম (Drainage System) যেন অত্যন্ত উন্নত হয়। বাথরুমে জল জমে থাকলে তা তীব্র নেতিবাচক শক্তির সৃষ্টি করে।

  • দক্ষিণ, পশ্চিম ও অন্যান্য কোণ: শৌচালয়টি যদি দক্ষিণ, পশ্চিম, নৈঋত্য (দক্ষিণ-পশ্চিম), অগ্নি কোণ (দক্ষিণ-পূর্ব) বা উত্তর-পশ্চিম কোণে তৈরি হয়, তবে তার মেঝে কখনও মূল ঘরের চেয়ে নিচু করবেন না। মেঝে সমান রাখাই শ্রেয়। এই ধরনের বদ্ধ জায়গায় জায়গা বাঁচাতে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে দেওয়াল-সংলগ্ন কমোড বা ওয়াল-মাউন্টেড কমোড (Wall-mounted Commode) ব্যবহার করা একটি বুদ্ধিমান বিকল্প হতে পারে।

আলো-বাতাসের ভারসাম্য ও পরিচ্ছন্নতা

সিঁড়ির নীচের অংশ সাধারণত ছোট এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। তাই এখানে বাথরুম বানালে পর্যাপ্ত আলো ও হাওয়া চলাচলের (Ventilation) ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় স্যাঁতসেঁতে ভাব, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং ছত্রাকের (Fungus) উপদ্রব ঘটতে পারে। বাস্তুমতে, এইরকম দুর্গন্ধযুক্ত ও অন্ধকার পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব (Negative Effect) ফেলে।

সিঁড়ির নীচের অংশকে কার্যকরী করতে হলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। সেখানে কখনোই অপ্রয়োজনীয় ময়লা-আবর্জনা জমতে দেওয়া উচিত নয়। সঠিক আলো, নিয়মিত জীবাণুমুক্তকরণ এবং বাস্তুর এই ছোটখাটো নিয়মগুলি মেনে চললে সিঁড়ির নীচের ফাঁকা জায়গাটিকেও দোষমুক্ত করে সুন্দরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

A
Admin

Senior Astrologer at AstroLoger with years of experience interpreting cosmic patterns. Dedicated to making astrology accessible and meaningful for everyone.

View Full Bio

Ready to Explore Your Cosmic Blueprint?

Get a personalized reading from our expert astrologers. Discover what the stars have in store for you.

Book Your Reading
Share: