হিন্দু ধর্মে মহাদেবকে দেবতাদের দেব এবং মহাকাল বলে অভিহিত করা হয়। তাঁর ভক্তদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং অতি অল্পতেই তুষ্ট হওয়ার স্বভাবের জন্য তিনি ‘আশুতোষ’ নামে পরিচিত। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, খাঁটি মন ও ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে দেবাদিদেব সমস্ত মনোবাসনা পূর্ণ করেন এবং জীবনের দুর্গম বাধা দূর করেন। এই বিশ্বাস থেকেই বহু নারী পারিবারিক শান্তি, দাম্পত্য (Marital) সুখ, স্বামীর দীর্ঘায়ু এবং সন্তানের কল্যাণ কামনায় শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবারে ব্রত পালন করেন।
শ্রাবণ সোমবারের বিশেষ গুরুত্ব
পৌরাণিক মতে, শ্রাবণ মাস থেকেই যদি সোমবারের ব্রত (Fast) শুরু করা হয়, তবে তার পুণ্যফল বহু গুণ বৃদ্ধি পায়। এই পবিত্র মাসে শিবলিঙ্গে জলাভিষেক, দুগ্ধাভিষেক (Milk Abhishek), বেলপাতা অর্পণ এবং ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এই আচারগুলো পালন করলে ঘরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি (Prosperity) ফিরে আসে।
পুজোর স্থান ও সঠিক নিয়ম
শাস্ত্রে পুজোর নিয়মের পাশাপাশি পুজোর স্থানকেও বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঘরে বসে আন্তরিকভাবে পুজো করলেও শুভ ফল মেলে, তবে গোশালা, কোনো পবিত্র নদীর তীর, তীর্থক্ষেত্র বা শিবমন্দিরে (Temple) গিয়ে শুদ্ধ মনে আরাধনা করলে তার পুণ্যফল অনেক বেশি হয়। এই কারণেই শ্রাবণের প্রতি সোমবারে দেশের সমস্ত শিবালয়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে।
পুরাণ অনুযায়ী, শ্রাবণ মাস হলো মূলত আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ঈশ্বরের চরণে পূর্ণ আত্মসমর্পণের সময়। মহাদেবের বিশেষ কৃপা পেতে ভক্তরা গোটা শ্রাবণ মাস জুড়ে সাত্ত্বিক (Sattvic) জীবনযাপন, নিত্য শিবপূজা এবং রুদ্রাভিষেক (Rudrabhisheka) করে থাকেন।
শিবলিঙ্গে কালো তিল অর্পণের জ্যোতিষীয় সুফল
জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসে শিবলিঙ্গে কালো তিল (Black Sesame) অর্পণের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে:
গ্রহদোষ খণ্ডন: যাঁদের জন্মছকে শনি (Saturn) বা রাহুর (Rahu) অশুভ মহাদশা, অন্তর্দশা কিংবা ক্ষতিকর গোচর চলছে, তাঁদের জন্য শ্রাবণে প্রতিদিন বা প্রতি সোমবারে শিবলিঙ্গে অর্পণ করা কালো তিল অত্যন্ত অলৌকিক কাজ করে।
মানসিক প্রশান্তি: তিল অর্পণের পাশাপাশি সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ, সংযম পালন এবং শিবমন্ত্র জপ করলে মানসিক অস্থিরতা দূর হয়।
শুভ প্রভাব: গ্রহের অশুভ দশা কেটে গিয়ে জীবনে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ে। জ্যোতিষীদের মতে, শুভ গ্রহের জোর বাড়াতে এই সময়ে উপযুক্ত রত্ন ধারণ করাও বেশ ফলদায়ক।