Vastu Tips

গলির শেষ মাথায় বাড়ি হলে বাড়ে নিরাপত্তাহীনতা, ঘর না ভেঙেও যেভাবে দূর করবেন বাস্তুদোষ

blank

নতুন বাড়ি তৈরির আগে আজকাল কমবেশি সকলেই বাস্তুশাস্ত্রবিদের (Vastu expert) পরামর্শ নিয়ে থাকেন। বাড়ি কোন মুখী হবে, জমির ধরন কেমন, কোথায় রান্নাঘর কিংবা কোথায় বাথরুম তৈরি করা উচিত—এই সবকিছুর ওপরই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা (Lifestyle) ও ভাগ্য নির্ভর করে বলে মনে করা হয়। তাই পরবর্তীতে যাতে কোনো বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়, তার জন্য শুরু থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। ঠিক একইভাবে, বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয় যে কোনো গলির শুরু কিংবা শেষ প্রান্তে বাড়ি হওয়া মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। কিন্তু এর পেছনের আসল কারণটি কী? কেন এই ধরণের অবস্থানকে অশুভ মনে করা হয়? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

টি-পয়েন্টের বাড়ি কেন ডেকে আনে মানসিক অশান্তি?

বাস্তুশাস্ত্রে (Vastu Shastra) ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, গলির শুরু বা শেষ প্রান্ত—যাকে সাধারণত ‘টি-পয়েন্ট’ (T-point) বলা হয়, সেখানে নেতিবাচক শক্তি (Negative energy) সরাসরি আঘাত করে। ওই অবস্থানে কোনো বাড়ি থাকলে প্রাকৃতিকভাবেই সেই অশুভ শক্তির প্রভাব গিয়ে পড়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর। ফলে ঘরের অভ্যন্তরীণ সুখ-শান্তি বিঘ্নিত হয়।

এর পেছনে কিছু বাস্তব কারণও রয়েছে। গলির একদম মুখে বা শেষ মাথায় বাড়ি হওয়ার কারণে দিনরাত যানবাহনের শব্দ বা হর্নের আওয়াজ লেগেই থাকে। এই অনবরত কোলাহল ও শব্দদূষণ পরিবারের সদস্যদের আচরণে (Behavior) নেতিবাচক পরিবর্তন আনে। মানুষ সহজেই খিটখিটে হয়ে পড়ে, মেজাজ হারায় এবং মানসিক উদ্বেগ (Anxiety) তাদের পিছু ছাড়তে চায় না। ছোটখাটো বা সামান্য ইস্যু (Issue) নিয়েও বাসিন্দারা আকাশ-কুসুম চিন্তা করতে শুরু করেন, যা তাঁদের মানসিক চাপ (Mental pressure) বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। এর জেরে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করেও পরিবারে বড়সড় অশান্তি বা চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও, গলির শেষ প্রান্তের বাড়িগুলিতে এক ধরণের একাকীত্ব ও নিরাপত্তাহীনতার (Insecurity) অনুভূতিও কাজ করে।

বাস্তুদোষ কাটানোর সহজ উপায় (Remedies)

নতুন করে জমি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এই ধরণের অবস্থান এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ (Option) থাকলেও, অনেকেরই বংশপরম্পরায় (Generations) একই আদি বাড়িতে বসবাস। ফলে বাড়ি বা জায়গা পরিবর্তন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ঘরবাড়ি না ভেঙেও কিছু সহজ উপায়ের মাধ্যমে এই নেতিবাচক শক্তিকে প্রতিহত করা সম্ভব:

১. বড় গাছ রোপণ করুন: বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারের (Main door) সামনে এমন কিছু গাছ লাগান যা আকারে বেশ বড় ও ঝাঁকড়া হয়। এই গাছগুলি বাইরে থেকে আসা নেতিবাচক শক্তির তরঙ্গে বাধা সৃষ্টি করবে এবং বাড়িকে সুরক্ষিত রাখবে।

২. কনভেক্স মিরর ব্যবহার: বাড়ির সদর দরজার বাইরের দেওয়ালে একটি কনভেক্স মিরর বা উত্তল দর্পণ (Convex mirror) লাগিয়ে রাখুন। এই বিশেষ আয়নাটি বাইরে থেকে আসা আলোকরশ্মি ও শক্তিকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। বিজ্ঞান ও বাস্তুর নিয়মে এই আয়নায় সবসময় বস্তুর সোজা, আকারে ছোট এবং অবাস্তব প্রতিবিম্ব (Virtual image) তৈরি হয়, যা অশুভ দৃষ্টি বা শক্তিকে প্রতিফলিত করে ফিরিয়ে দেয়।

৩. ওয়াটার ফাউন্টেন বা জলপ্রপাত: আপনার বাড়িটি যদি উত্তর-পূর্ব মুখী (North-east facing) হয়, তবে মূল দরজার কাছে বা লবিতে একটি ছোট ওয়াটার ফাউন্টেন (Water fountain) বা জলের ফোয়ারা রাখতে পারেন। জলপ্রবাহের বহমান শব্দ ও ইতিবাচক শক্তি বাড়ির পরিবেশকে শান্ত ও মনোরম রাখতে সাহায্য করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *