দিন দিন কি সংসারে খিটখিটে ভাব আর পারিবারিক অশান্তি বেড়ে চলেছে? আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও কেরিয়ারে প্রমোশন বা মনের মতো অগ্রগতি মিলছে না? সারাক্ষণ এক অজানা অস্থিরতা ও অবসাদ আপনাকে গ্রাস করছে? বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) বলছে, এই সব সমস্যার পেছনে দায়ী হতে পারে আপনার ঘরে জমে থাকা স্থবির বা নেতিবাচক শক্তি। অনেক সময় আমরা ঘরদোর ঝকঝকে রাখলেও ভেতরের অদৃশ্য শক্তি বা এনার্জিকে (Energy) সতেজ রাখতে পারি না। ফলে ঘরে পজিটিভ ভাইবসের অভাব ঘটে, যা সরাসরি আমাদের ভাগ্য ও মানসিকতার ওপর প্রভাব ফেলে।
কেন অন্দরে জমে অশুভ শক্তি?
বাস্তুবিজ্ঞান অনুযায়ী, ঘরের ধুলো-ময়লা, ভাঙা কাচ, বিকল ইলেকট্রনিক্স পণ্য, অপ্রয়োজনীয় আসবাব কিংবা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আবর্জনা শক্তির স্বাভাবিক চলাচলে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে ঘরে এক ধরনের স্থবিরতা বা স্ট্যাগনেন্সি (Stagnancy)-র জন্ম হয়। এই অবরুদ্ধ পরিবেশই পরবর্তীকালে সদস্যদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ (Mental Stress), অবসাদ এবং দাম্পত্য কলহের কারণ হয়ে ওঠে।
ভাগ্য ফেরাতে ঘরের কোন কোন অংশে বদল আনবেন?
সহজ কিছু ঘরোয়া টোটকা ও অভ্যাসের পরিবর্তন করে আপনিও আপনার ঘরের পরিবেশকে পুরোপুরি ডিটক্স (Detox) করে তুলতে পারেন:
-
ঘরের কোণ কোণ পরিষ্কার রাখুন: বাড়ির যেকোনো কোণ বা কর্নার (Corner) হলো স্থবির শক্তির প্রধান বাসস্থান। তাই ঘরের কোণায় কখনো পুরোনো খবরের কাগজ, ভাঙা খেলনা বা প্লাস্টিকের বাক্স স্তূপ করে রাখবেন না। কোণগুলো সবসময় ফাঁকা ও পরিচ্ছন্ন রাখলে শুভ শক্তির প্রবাহ বাড়ে।
-
প্রধান প্রবেশদ্বারের মহত্ব: বাড়ির সদর দরজা বা মেইন এন্ট্রান্স (Main Entrance)-কে সৌভাগ্যের প্রবেশপথ বলা হয়। দরজার সামনে যত্রতত্র জুতো-চটি, নোংরা পাপোশ বা ডাস্টবিন জমিয়ে রাখবেন না। উন্মুক্ত ও সাজানো প্রবেশদ্বার জীবনে উন্নতির নতুন পথ খুলে দেয়।
-
মেঝে মোছার বিশেষ পদ্ধতি: ঘর মোছার জলে সামান্য সাদা ভিনিগার (White Vinegar) এবং কিছুক্ষণ রোদে রাখা জল মিশিয়ে দিন। বাস্তুবিদদের মতে, এই মিশ্রণ দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করলে ঘরের সমস্ত নেগেটিভিটি নিমেষে উধাও হয়ে যায়।
-
পর্দা ও কুশনের যত্ন: ঘরের পর্দা, কুশন কভার ও কার্পেটে দ্রুত ধুলোবালি জমে। এগুলো নিয়মিত কাচা সম্ভব না হলেও, দু-তিন দিন অন্তর কড়া রোদে (Sunlight) দিন। রোদ হলো প্রাকৃতিক পিউরিফায়ার, যা পুরোনো শক্তিকে নষ্ট করে দেয়।
সুগন্ধ ও শব্দের জাদুতে গৃহশুদ্ধি
ঘর গোছানোর পর প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় ধূপ-ধুনো জ্বালিয়ে পুরো বাড়িতে তার ধোঁয়া দিন। সুগন্ধি ধূপের ধোঁয়া বাতাসকে পবিত্র ও সতেজ (Fresh) করে তোলে। এছাড়া, সামান্য জাফরান বা স্যাফরন (Saffron) জলে ভিজিয়ে সেই জল জানলা-দরজার চৌকাঠে ও ঘরের কোণায় ছিটিয়ে দিলে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আগমন ঘটে এবং সমৃদ্ধি বাড়ে।
সবশেষে, বাড়িতে প্রতিদিন অন্তত একবার তামা বা কাঁসার ঘণ্টা (Bell) বাজান। ঘণ্টার পবিত্র ধ্বনি ও কম্পন বা ভাইব্রেশন (Vibration) ঘরের সব জমে থাকা অলক্ষ্মী বিদায় করে এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি এনে দেয়।