সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য গৃহের পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত জরুরি। বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুযায়ী, অপরিষ্কার স্থানে নেতিবাচক শক্তি বা নেগেটিভ এনার্জি বাসা বাঁধে, যা পরিবারের সদস্যদের উন্নতিতে বাধা দেয়। অন্যদিকে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে ইতিবাচক শক্তি বা পজিটিভ এনার্জি (Positive Energy) প্রবাহিত হয়। তবে ঘর মোছার ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম। সঠিক পদ্ধতি মেনে ঘর মুছলে অশুভ শক্তি দূর হয়ে সংসারে সুখ-শান্তি ফিরে আসে।
জেনে নিন ঘর মোছার সঠিক বাস্তু নিয়মগুলো:
ঘর মোছার সঠিক পদ্ধতি
বাস্তুবিদদের মতে, প্রতিদিন ঘর মোছা অত্যন্ত শুভ। তবে ঘর মোছা শুরু করা উচিত বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার (Main Entrance) থেকে। এরপর ক্রমান্বয়ে ভেতরের ঘরগুলো মুছতে হবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস হলো, ঘর মোছার সময় হাত সবসময় ঘড়ির কাঁটার দিকে বা ক্লকওয়াইজ (Clockwise) ঘোরানো উচিত। বাড়ির প্রধান দরজা থেকে শুরু করে পুরো ঘর মুছে আবার সেই দরজাতেই এসে কাজ শেষ করা শুভ বলে মানা হয়।
উপযুক্ত সময়
ঘর মোছার জন্য সময় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তুশাস্ত্র জানাচ্ছে, ‘ব্রাহ্ম মুহূর্ত’ (Brahma Muhurta) হলো ঘর পরিষ্কার করার সবথেকে উপযুক্ত সময়। অর্থাৎ সূর্যোদয়ের আগে, ভোর সাড়ে ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে ঘর মোছার কাজ সেরে ফেলা ভালো। এই সময়ে ঘর পরিষ্কার করলে গৃহের ইতিবাচক শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।
জলের সাথে যা মেশাবেন
ঘর থেকে জেদি নেতিবাচক শক্তি দূর করতে জলের বালতিতে সামান্য রক সল্ট (Rock Salt) বা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। লবণ জল দিয়ে ঘর মুছলে বাড়ির নেতিবাচক প্রভাব দ্রুত কেটে যায় এবং পরিবারে সমৃদ্ধি (Prosperity) বজায় থাকে।
কখন ঘর মুছবেন না?
বাস্তু মতে, দুপুরের পর বিশেষ করে বেলা ১২টার পর ঘর মোছা একদম উচিত নয়। বিকালের দিকে বা সন্ধ্যার মুখে ঘর মুছলে নেতিবাচক শক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা গৃহকর্তার আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া খেয়াল রাখবেন, বাড়ির মূল দরজা যেন সবসময় ধুলোবালি মুক্ত ও পরিষ্কার থাকে, কারণ এখান দিয়েই সৌভাগ্যের প্রবেশ ঘটে।