বাড়ির সামনে বা বারান্দায় হঠাত একটি বিড়াল দেখলে অনেকেই বিরক্ত হন। কেউ লাঠি নিয়ে তাড়াতে যান, আবার কেউ গায়ে জল ছিটিয়ে দেন। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) বলছে, অবলা এই প্রাণীটির প্রতি আপনার এই আচরণ বদলে দিতে পারে আপনার ভাগ্যের চাকা। বিড়াল তাড়ানো বা তাকে আঘাত করা মানেই বড় কোনো বিপদকে (Danger) আমন্ত্রণ জানানো।
বাস্তুবিদদের মতে, বিড়াল অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রাণী, যা আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক শক্তির বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে। জেনে নিন বিড়াল নিয়ে বাস্তুশাস্ত্রের কিছু অজানা দিক:
শুভ শক্তির প্রতীক সাদা ও সোনালী বিড়াল
বাস্তুশাস্ত্রে সাদা বিড়ালকে অত্যন্ত ইতিবাচক (Positive) এবং দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি আপনার বাড়িতে কোনো সাদা বা সোনালী রঙের বিড়াল নিজে থেকে আসে, তবে বুঝবেন আপনার ধন-সম্পত্তি বৃদ্ধির সময় এসেছে। বিশেষ করে, বিড়াল যদি আপনার বাড়িতে সন্তান প্রসব (Give birth) করে, তবে সেটি পরম সৌভাগ্যের লক্ষণ। এর অর্থ হলো, দীর্ঘদিনের আটকে থাকা টাকা আপনি ফিরে পেতে পারেন অথবা পরিবারে কোনো খুশির খবর আসতে চলেছে।
কালো বিড়াল কি সত্যিই অশুভ?
সাধারণত লোকমুখে কালো বিড়ালকে অশুভ ভাবা হলেও বাস্তুশাস্ত্র কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। বিশ্বাস করা হয়, কালো বিড়াল বাড়িতে থাকলে কোনো বড় অশুভ শক্তি (Evil energy) বা নজর দোষ সহজে প্রবেশ করতে পারে না। এটি অনেকটা রক্ষাকবচের মতো কাজ করে। তাই রঙ দেখে বিড়ালকে বিচার করে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া বা আঘাত করা মানে হলো নিজের সৌভাগ্যের পথে বাধা সৃষ্টি করা। এতে আপনার চলতি কাজ মাঝপথে আটকে যেতে পারে।
কখন সাবধান হওয়া প্রয়োজন?
বিড়ালের উপস্থিতি শুভ হলেও তার কিছু আচরণ কিন্তু সতর্কবার্তা দেয়। বাস্তু মতে, বিড়াল যদি আপনার বাড়ির বাইরে বা ভেতরে বসে একটানা কান্না (Crying) করে, তবে তা অত্যন্ত নেতিবাচক সংকেত। বিড়ালের কান্না আসন্ন কোনো বিপদ বা অশুভ ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে। এমন পরিস্থিতিতে বিড়ালকে আঘাত না করে ঈশ্বর বা ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করা উচিত।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, বিড়াল যে রঙেরই হোক না কেন, তাকে সেবা না করতে পারলেও অন্তত তাড়ানো বা আঘাত করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ আপনার একটি ভুল পদক্ষেপই ডেকে আনতে পারে চরম সর্বনাশ।