বাড়ির প্রতিটি কোণ আমাদের মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে, আর সেই প্রভাবের কেন্দ্রবিন্দু হলো ঠাকুরঘর। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে আমরা যেখানে মানসিক প্রশান্তি (Peace of mind) খুঁজি, সেখানে যদি বাস্তুশাস্ত্রে ত্রুটি থাকে, তবে পরিবারে অশান্তি দানা বাঁধতে পারে। বাস্তুবিদদের মতে, ঠাকুরঘর অগোছালো বা ভুল দিকে থাকলে ইতিবাচক শক্তির বদলে নেতিবাচকতা (Negative Energy) ঘরে প্রবেশ করে। আপনার প্রিয় ইষ্টদেবতার আশীর্বাদ যেন সারাক্ষণ আপনার সাথে থাকে, তার জন্য ঠাকুরঘর সাজানোর আগে নিচের নিয়মগুলো অবশ্যই মেনে চলুন।
আদর্শ দিক ও স্থান নির্বাচন
বাস্তুশাস্ত্রে দিক নির্বাচন (Direction selection) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঠাকুরঘরের জন্য উত্তর-পূর্ব কোণ বা ঈশান কোণকে সবচেয়ে শুভ মনে করা হয়। যদি পৃথক ঘর সম্ভব না হয়, তবে ড্রয়িং রুম বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ঘরের উত্তর-পূর্ব অংশটি বেছে নিন। বিকল্প হিসেবে উত্তর বা পূর্ব দিকেও ঠাকুর রাখা যেতে পারে। তবে ভুলেও বাড়ির দক্ষিণ দিকে ঠাকুরের স্থান করবেন না। জায়গার অভাবে অনেকেই সিঁড়ির নিচের (Under the staircase) অংশে ঠাকুরঘর তৈরি করেন, যা বাস্তু মতে চরম অশুভ এবং অমঙ্গলজনক বলে গণ্য হয়।
আকার ও রঙের প্রভাব
ঠাকুরঘরের আকৃতি (Shape) সবসময় সুষম হওয়া প্রয়োজন। বাস্তু অনুযায়ী বর্গাকার বা আয়তাকার ঘর অত্যন্ত শুভ। এবড়ো-খেবড়ো বা অদ্ভুত গঠনের ঘরে শক্তির প্রবাহ ব্যাহত হয়। রঙের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল বা উগ্র রঙ এড়িয়ে চলুন। মনকে শান্ত রাখতে দেওয়ালে হালকা হলুদ, সাদা বা আকাশি রঙ ব্যবহার করুন। এই হালকা রঙগুলো ঘরে আলোর প্রতিফলন (Reflection) বাড়ায় এবং স্নিগ্ধ পরিবেশ বজায় রাখে।
দরজার গঠন ও ঠাকুর বসানোর নিয়ম
পুজোর ঘরের দরজা যেন মসৃণভাবে খোলে এবং বন্ধ হয়। দরজা খোলার সময় যদি ‘ক্যাঁচক্যাঁচ’ শব্দ (Squeaky sound) হয়, তবে তা নেতিবাচক শক্তির সৃষ্টি করে। কাঠের দরজা ব্যবহার করা সবচেয়ে বাস্তুসম্মত। ঠাকুর বসানোর সময় খেয়াল রাখুন যেন মূর্তিগুলো সরাসরি প্রধান দরজার দিকে মুখ করে না থাকে। আবার একটি মূর্তির সাথে অন্যটি ঠেকিয়ে রাখবেন না। ভগবানকে সরাসরি মেঝেতে না রেখে সামান্য উঁচুতে বা কাঠের সিংহাসনে (Throne) স্থাপন করা উচিত।
পবিত্রতা ও আলো-বাতাস
ভগবানের স্থান মানেই পরম পবিত্রতা। তাই ঠাকুরঘরে কোনো অপ্রয়োজনীয় জঞ্জাল জমিয়ে রাখা চলবে না। ঘরটি যেন সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে এবং সেখানে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের (Ventilation) ব্যবস্থা থাকে। অন্ধকার বা গুমোট পরিবেশে অশুভ শক্তির প্রভাব বাড়ে। তাই ঘরটিকে সবসময় উজ্জ্বল আর প্রাণবন্ত রাখতে প্রদীপ বা মৃদু আলো জ্বালিয়ে রাখুন।