Vastu Tips

কার্তিক-গণেশের সেই প্রতিযোগিতাই কি পরিক্রমার আদি উৎস? নেপথ্যের অজানা কাহিনি

blank

হিন্দু ধর্মে মন্দিরে দেবদর্শনের (Deity sighting) অভিজ্ঞতা কেবল বিগ্রহ দেখাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার পরবর্তী আচার-অনুষ্ঠানগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে অন্যতম হলো মন্দিরের চারপাশ ঘুরে আসা বা ‘পরিক্রমা’। শাস্ত্র ও বিজ্ঞানের এক অপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে এই আচারের নেপথ্যে।

পরিক্রমা আসলে কী?
সংস্কৃত শব্দ ‘পরিক্রমা’ (Circumambulation) বলতে কোনো পবিত্র স্থান বা দেবতাকে প্রদক্ষিণ করাকে বোঝায়। সনাতন নিয়ম অনুযায়ী, পরিক্রমা সবসময় ঘড়ির কাঁটার দিকে (Clockwise) অর্থাৎ ডান দিক থেকে শুরু করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, প্রদক্ষিণ করার সময় আরাধ্য দেবতা যেন সর্বদা আমাদের ডান দিকে অবস্থান করেন। মনে করা হয়, ডান দিকটি হলো শুভ ও পবিত্রতার প্রতীক।

পরিক্রমার মাহাত্ম্য ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপট
পরিক্রমার গুরুত্ব বুঝতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হয় দেবাদিদেব মহাদেব ও মাতা পার্বতীর দুই পুত্র— গণেশ ও কার্তিকের সেই কালজয়ী প্রতিযোগিতার (Competition) কাহিনিতে। পৌরাণিক কথা অনুসারে, একবার শিব-পার্বতী তাঁদের সন্তানদের বিশ্বব্রহ্মাণ্ড (Universe) পরিক্রমা করার আদেশ দেন। যিনি দ্রুত ফিরে আসবেন, তিনিই হবেন শ্রেষ্ঠ।

কার্তিক দ্রুতগতিতে তাঁর বাহন ময়ূরে চড়ে বিশ্ব ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু স্থূলকায় ও ধীরগতির গণেশ বুদ্ধির পরিচয় দেন। তিনি বাহন ইঁদুর নিয়ে বাবা-মায়ের চারপাশেই পরিক্রমা সম্পন্ন করেন। গণেশ জানান, তাঁর কাছে পিতা-মাতাই হলেন সমগ্র জগত। তাঁর এই ভক্তি ও গভীর উপলব্ধি (Realization) শিব-পার্বতীকে তুষ্ট করে এবং তিনি বিজয়ী ঘোষিত হন। সেই থেকেই ঈশ্বরকে কেন্দ্র করে পরিক্রমা করাকে পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতীক (Symbol of surrender) হিসেবে দেখা হয়।

আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
আধ্যাত্মিক গবেষকদের মতে, মন্দিরের গর্ভগৃহে (Sanctum sanctorum) যেখানে বিগ্রহ স্থাপিত থাকে, সেখানে প্রবল আধ্যাত্মিক শক্তির বিকিরণ ঘটে। এই কেন্দ্রবিন্দুকে ঘিরে একটি শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বা শক্তির বলয় (Energy field) তৈরি হয়। যখন কোনো ভক্ত ভক্তিভরে মন্দিরের চারপাশ প্রদক্ষিণ করেন, তখন সেই ইতিবাচক আধ্যাত্মিক শক্তি ভক্তের শরীরে সঞ্চারিত হয়। এটি কেবল মনকে শান্ত করে না, বরং শরীরের নেতিবাচকতা দূর করে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে।

পরিক্রমা হলো ঈশ্বরের অসীম সত্তার কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার একটি মাধ্যম। দেবদর্শনের পর এই আচার পালন করলে মনের একাগ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং মন্দিরের পবিত্র পরিবেশে থাকা ইতিবাচক স্পন্দন (Positive vibrations) ভক্তের অন্তরে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *