মহাশিবরাত্রি ২০২৬: শিবভক্তদের কাছে বছরের সবথেকে পবিত্র দিন। ভোরে স্নান সেরে উপবাস রেখে মহাদেবের আরাধনায় মগ্ন হন ভক্তরা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে নিজ হাতে শিবলিঙ্গ গড়ে পুজো করলে অশেষ পুণ্য লাভ হয়। তবে কেবল পুজোর উপাচারেই নয়, বাস্তুশাস্ত্র বলছে মহাশিবরাত্রির দিনে নির্দিষ্ট কিছু গাছ বাড়িতে আনলে বা রোপণ করলে জীবনের মোড় ঘুরে যেতে পারে।
আর্থিক উন্নতি, মানসিক শান্তি এবং নেতিবাচক শক্তি দূর করতে এই শিবরাত্রিতে আপনার অন্দরে জায়গা করে দিতে পারেন এই ৬টি গাছকে:
১. বেল গাছ (Bael Tree): শিবপুজোয় বেলপাতা ছাড়া নৈবেদ্য অপূর্ণ। বাস্তু মতে, বাড়ির উত্তর বা পূর্ব দিকে বেল গাছ রোপণ করা অত্যন্ত শুভ। এটি গৃহের কলহ দূর করে এবং অশুভ শক্তির প্রবেশ রোধ করে। শিবরাত্রিতে এই গাছ লাগানো বিশেষ পুণ্যদায়ক।
২. তুলসী গাছ (Holy Basil): তুলসী পরিবেশকে শুদ্ধ রাখে এবং অশুভ প্রভাব দূর করে। যদিও তুলসী বিষ্ণুর প্রিয়, তবুও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে (ঈশান কোণ) তুলসী গাছ রাখলে মানসিক শান্তি ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।
৩. ধুতুরা গাছ (Datura Plant): মহাদেব ‘আশুতোষ’, তিনি তুষ্ট হন ধুতুরাতেই। বাস্তু মতে, শিবরাত্রির দিনে ধুতুরা গাছ রোপণ করলে শত্রুর ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, এটি বিষাক্ত উদ্ভিদ; তাই বাড়িতে শিশু বা পোষ্য থাকলে সতর্ক থাকা জরুরি।
৪. মানিপ্ল্যান্ট (Money Plant): আর্থিক সমৃদ্ধি ও শ্রীবৃদ্ধির জন্য মানিপ্ল্যান্ট অদ্বিতীয়। বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি নতুন মানিপ্ল্যান্ট এই দিনে বসাতে পারেন। এটি অর্থপ্রবাহ সচল রাখতে সাহায্য করে।
৫. অশোক গাছ (Ashoka Tree): নামেই যার পরিচয়— ‘শোক হরণকারী’। বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারের কাছে অশোক গাছ লাগালে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ে। এটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুখ-শান্তি বজায় রাখে এবং অকাল দুঃখ বিনাশ করে।
৬. অপরাজিতা গাছ (Aparajita/Butterfly Pea): নীল অপরাজিতা মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় ফুল। বাড়ির পূর্ব দিকে এই লতানো গাছ লাগালে আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ ঘটে এবং কর্মক্ষেত্রে সাফল্য আসার পথ প্রশস্ত হয়।