মহাশিবরাত্রি ২০২৬: প্রেমের বাধা কাটানো থেকে শুরু করে মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়া— ফাল্গুনের এই মাহেন্দ্রক্ষণ শিবভক্তদের কাছে এক পরম আশীর্বাদ। হিন্দু শাস্ত্র মতে, এই বিশেষ তিথিতেই মহাদেব ও দেবী পার্বতী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাই বিশ্বাস করা হয়, যারা নিজের পছন্দের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চান, তাঁদের জন্য মহাশিবরাত্রির ব্রত ও বিশেষ কিছু প্রতিকার মহৌষধির মতো কাজ করে।
আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রির দিন আপনার ‘ক্রাশ’ বা ভালোবাসার মানুষের মন জয় করতে এবং সম্পর্কের জটিলতা কাটাতে যা করবেন:
১. লাল সুতোর বন্ধনে প্রেম হবে অটুট: যদি আপনি কোনো প্রেমের সম্পর্কে থাকেন এবং সেটিকে বিয়ের পিঁড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান, তবে এই দিনটি সেরা সুযোগ। সঙ্গীকে নিয়ে শিব মন্দিরে যান। একটি লাল সুতো হাতে ধরে শিব-পার্বতীকে একত্রে সাতবার প্রদক্ষিণ করুন। এরপর সেই সুতোটি মন্দিরের পবিত্র স্থানে বেঁধে আপনার মনের ইচ্ছার কথা জানান। শিব-শক্তির আশীর্বাদে দীর্ঘদিনের বাধা কেটে যাবে।
২. দেবীর সাজে তুষ্ট করুন মা পার্বতীকে: পছন্দসই জীবনসঙ্গী পেতে এদিন লাল পোশাক পরা অত্যন্ত শুভ। মন্দিরে গিয়ে দেবী পার্বতীর চরণে লাল চুড়ি, লাল ওড়না, সিঁদুর এবং লাল ফুল অর্পণ করুন। ঠিক যেভাবে পার্বতী কঠোর তপস্যায় শিবকে পেয়েছিলেন, তেমনই নিষ্ঠাভরে দেবীর কাছে আপনার মনের মানুষের নাম জানিয়ে প্রার্থনা করুন।
৩. চার প্রহরের বিশেষ অভিষেক: পছন্দের মানুষকে পেতে মহাশিবরাত্রির উপবাস ভাঙবেন না। চার প্রহরের পুজোয় দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি অর্থাৎ পঞ্চামৃত দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করুন। বিশেষ করে নিশীথ কালে (মধ্যরাতে) ভক্তিভরে অভিষেক করলে মহাদেব ও মা পার্বতী অতি দ্রুত প্রসন্ন হন।
৪. ক্ষমা প্রার্থনা ও নিষ্ঠা: পুজোর শেষে নিজের অজ্ঞাতসারে হওয়া ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিন। মনে রাখবেন, মহাদেব ও পার্বতীর মিলনের এই দিনে অকৃত্রিম ভক্তি আর শুদ্ধ মনে প্রার্থনা করলেই মনের মানুষের সাথে মিলনের পথ প্রশস্ত হয়।