আধুনিক শহুরে জীবনে জায়গার অভাব আর আরামের তাগিদে ‘অ্যাটাচড বাথরুম’ এখন অপরিহার্য। তবে বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, শোওয়ার ঘরের সঙ্গে লাগোয়া শৌচালয় নেতিবাচক শক্তির আধার হতে পারে। শাস্ত্র মতে, আগেকার দিনে শৌচালয় মূল বাড়ি থেকে দূরে রাখার প্রথা ছিল স্বাস্থ্য ও শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য।
বর্তমানে যদি আপনার বাড়িতেও বেডরুমের সঙ্গে বাথরুম যুক্ত থাকে, তবে নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে নিচের বাস্তু-বিধিগুলো মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
১. পরিচ্ছন্নতা ও বর্জনীয় অভ্যাস
অ্যাটাচড বাথরুম থাকলে নেতিবাচক শক্তি সরাসরি শোওয়ার ঘরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে ঘুম কম হওয়া, মানসিক অস্থিরতা বা সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। তাই বাথরুম সবসময় পরিষ্কার রাখুন। খালি শ্যাম্পুর বোতল, ছোট সাবানের টুকরো বা ভাঙা টয়লেট সিট জমিয়ে রাখবেন না—এগুলো নেতিবাচকতা বাড়িয়ে দেয়।
২. কল থেকে জল পড়া বন্ধ করুন
বাস্তুমতে, বাথরুমের কল থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়া মানেই ‘সংসারের লক্ষ্মী’ বিদায় নেওয়া। এটি আর্থিক অপচয় ও দারিদ্রের লক্ষণ। তাই কল খারাপ থাকলে তা দ্রুত মেরামত করুন।
৩. খাটের অবস্থান ও দরজার ব্যবহার
শোওয়ার ঘরের খাট এমনভাবে রাখুন যাতে ঘুমানোর সময় আপনার পা বাথরুমের দেওয়ালের দিকে না থাকে। এটি দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া কাজ শেষ হওয়া মাত্রই বাথরুমের দরজা বন্ধ রাখার অভ্যাস করুন।
৪. রঙের ব্যবহার ও রাহুর প্রভাব
বাথরুমের টাইলস বা দেওয়ালের জন্য হালকা রং যেমন—সাদা, আকাশী নীল, ক্রিম বা হালকা বেগুনি বেছে নিন। কালো বা গাঢ় খয়েরি রং এড়িয়ে চলুন; কারণ এই রংগুলো ‘রাহু’র অশুভ প্রভাব বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করা হয়।
৫. কমোডের ব্যবহার ও নুনের টোটকা
ব্যবহারের পর কমোডের ঢাকনা সবসময় বন্ধ রাখুন। এছাড়া একটি কাঁচের বাটিতে কিছুটা ‘রক সল্ট’ বা সেঁদোভ নুন ভরে বাথরুমের এক কোণায় রেখে দিন। নুন নেতিবাচক শক্তি শুষে নিতে সক্ষম। তবে মনে রাখবেন, প্রতি সপ্তাহে এই নুন পরিবর্তন করে ফ্লাশ করে দিতে হবে।