লাইফস্টাইল ডেস্ক: দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা প্রকাশ করতে অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী একই থালায় খাবার খান। আপাতদৃষ্টিতে এটি রোমান্টিক মনে হলেও, প্রাচীন শাস্ত্র এবং বাস্তুবিদ্যার একটি ভিন্ন মত রয়েছে। বলা হয়, এই অভ্যাসের ফলে অজান্তেই সংসারে অশান্তি বা নেতিবাচক প্রভাব নেমে আসতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এর পেছনের কারণগুলো।
১. নেতিবাচক শক্তির প্রবেশ ও কলহ
বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, প্রতিটি মানুষের নিজস্ব এনার্জি বা শক্তি থাকে। কিন্তু যখন স্বামী-স্ত্রী নিয়মিত একই থালায় খাবার খান, তখন সেই এনার্জির ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। শাস্ত্র মতে, এতে সংসারে অহেতুক ঝগড়া-বিবাদ এবং মানসিক অশান্তি তৈরির আশঙ্কা বাড়ে।
২. পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধে ভাটা
ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, সংসারের কর্তার দায়িত্ব কেবল তার স্ত্রীর প্রতি নয়, বরং সন্তানদের এবং গুরুজনদের প্রতিও সমান। যখন স্বামী-স্ত্রী একই থালায় খাবার খেয়ে কেবল একে অপরের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন, তখন পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতি অবহেলা জন্ম নিতে পারে। এর ফলে ঘরে ঈর্ষা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৩. স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
কেবল শাস্ত্র নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকেও একই থালায় খাওয়ার কিছু ঝুঁকি রয়েছে। যদি সঙ্গীর কোনো ছোঁয়াচে রোগ বা সংক্রমণ থাকে, তবে তা সহজেই অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ভাইরাল ফিভার বা ঠাণ্ডা-জ্বরের সময় আলাদা থালায় খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. ঐক্য কি কমছে?
শাস্ত্রে একসঙ্গে বসে খাওয়াকে অত্যন্ত শুভ বলা হয়েছে। তবে থালা আলাদা হওয়াই বাঞ্ছনীয়। পরিবারের সবাই যখন ডাইনিং টেবিলে একসঙ্গে বসে কথা বলতে বলতে খাবার খান, তখন পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্য বৃদ্ধি পায়। এতে বন্ধন মজবুত হয় কিন্তু দায়িত্ববোধে বিচ্যুতি ঘটে না।