জীবনে চলার পথে উত্থান-পতন আসতেই পারে। কিন্তু কখনও কখনও দেখা যায়, শত চেষ্টা সত্ত্বেও ঋণের (Debt) বোঝা কিছুতেই কমছে না, বরং একের পর এক আর্থিক সংকট ঘিরে ধরছে। আমরা অনেকেই একে কেবল দুর্ভাগ্যের পরিহাস বলে মেনে নিই, কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) বলছে অন্য কথা। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের খুব সাধারণ কিছু ভুল বা বাস্তু ত্রুটি (Vastu Defects) একজন ধনী মানুষকেও সর্বস্বান্ত করে দিতে পারে।
সংসারে সুখ-শান্তি ফেরাতে এবং ঋণের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে বাস্তুর এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি:
খাবারের অভ্যাস ও পরিচ্ছন্নতা
অনেকেরই অভ্যাস আছে বাইরে থেকে ফিরে হাত-পা না ধুয়ে সরাসরি বিছানায় বসে খাবার খাওয়ার। বাস্তু মতে, এটি অত্যন্ত অশুভ লক্ষণ। বিছানায় বসে খাবার খেলে দেবী লক্ষ্মী রুষ্ট হন এবং পরিবারে দারিদ্র্য (Poverty) বাসা বাঁধে। তাই সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে খাবার টেবিল বা নির্দিষ্ট স্থানে বসে আহার গ্রহণ করুন।
প্রবেশদ্বার ও ডাস্টবিনের অবস্থান
বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার (Entrance) সবসময় পরিষ্কার রাখা উচিত। প্রবেশদ্বারের সামনে কখনওই ডাস্টবিন বা আবর্জনা জমিয়ে রাখবেন না। এটি ঘরে ইতিবাচক শক্তি প্রবেশে বাধা দেয়। ডাস্টবিন রাখার সঠিক জায়গা হলো বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম (South-West) বা উত্তর-পশ্চিম কোণ। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় মূল দরজার সামনে ঘিয়ের প্রদীপ (Ghee Lamp) জ্বালানো শুভ বলে মনে করা হয়।
রান্নাঘরের নিয়ম
রাতে ঘুমানোর আগে রান্নাঘর পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। এঁটো বাসন (Dirty dishes) সিঙ্কে বা রান্নাঘরে ফেলে রাখা ঋণের বোঝা বাড়ানোর অন্যতম কারণ। যদি রাতে বাসন ধোয়া সম্ভব না হয়, তবে সেগুলো অন্তত রান্নাঘরের বাইরে রাখুন। মনে রাখবেন, অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর আর্থিক অনটন ও পারিবারিক অশান্তি তৈরি করে।
সন্ধ্যাবেলায় লেনদেন নিষিদ্ধ
বাস্তু ও জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর বা সন্ধ্যার সময় কাউকে দুধ (Milk), দই বা লবণ (Salt) দান করা উচিত নয়। এতে কুণ্ডলীতে চন্দ্রের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঘরে অর্থের সংকট দেখা দেয়। প্রয়োজন হলে এই জিনিসগুলো সকালে সংগ্রহ করুন, কিন্তু সন্ধ্যার পর লেনদেন এড়িয়ে চলুন।
ধর্মগ্রন্থ ও ঠাকুরঘরের পবিত্রতা
ধর্মীয় গ্রন্থ বা বই ভুল দিকে রাখা অশুভ। এগুলি সবসময় পশ্চিম (West) দিকে রাখা উচিত। বই কখনও বালিশের নিচে বা গদির তলায় রাখবেন না। একইভাবে, ঠাকুরঘর বা দেবতার স্থান হতে হবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। অন্ধকার বা গুমোট ঘরে অশুভ শক্তির (Negative Energy) প্রভাব বেশি থাকে। নিয়মিত ঠাকুরঘর পরিষ্কার করুন এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখুন।