মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু হলো জীবজন্তু। সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি আর মানসিক চাপ (Stress) নিমেষে উধাও হয়ে যায় ওদের ছোঁয়ায়। সে লেজ নাড়ানো চারপেয়ে বন্ধু হোক বা অ্যাকোয়ারিয়ামের শান্ত মাছ—ওদের সান্নিধ্য মন ভালো করার এক জাদুকরী ওষুধ। তবে শখের বসে বা ভালোবাসার টানে অনেকেই বাড়িতে পোষ্য আনলেও, এর পেছনে অনেক সময় কাজ করে ভাগ্য ফেরানোর (Good Luck) আশা। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্র বলছে, সঠিক নিয়ম না মেনে পোষ্য রাখলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
পোষ্য ও জ্যোতিষশাস্ত্রের সংযোগ
জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) অনুযায়ী, পোষ্য মানেই যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমনটা নয়। বরং কিছু নির্দিষ্ট প্রাণী ঘরে আনলে সুখ-সমৃদ্ধি উপচে পড়ে। তবে এক্ষেত্রে প্রাণী নির্বাচন (Selection) করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শাস্ত্রমতে, বাড়িতে যদি কালো রঙের কুকুর রাখা যায়, তবে তা অত্যন্ত শুভ ফল দেয়। একইভাবে মাছ বা পাখি পালনও পরিবারের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে।
অ্যাকোয়ারিয়াম ও কচ্ছপের সঠিক অবস্থান
আপনার ড্রয়িং রুমে রাখা বাহারি মাছগুলো শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এটি বাস্তুর নেতিবাচক শক্তি (Negative Energy) দূর করতেও সাহায্য করে। তবে ভুল দিকে অ্যাকোয়ারিয়াম রাখলে মানসিক ও আর্থিক সমস্যা (Financial Crisis) দেখা দিতে পারে। জ্যোতিষবিদদের মতে:
অ্যাকোয়ারিয়াম: বাড়ির দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে অ্যাকোয়ারিয়াম স্থাপন করলে উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়। ভুল দিকে এটি রাখলে সংসারে বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে।
কচ্ছপ: অনেকেই জ্যান্ত কচ্ছপের বদলে কচ্ছপের শোপিস বাড়িতে রাখেন। মনে রাখবেন, পশ্চিম দিক হলো ইচ্ছাপূরণের (Manifestation) দিক। তাই কচ্ছপের শোপিস সবসময় পশ্চিম দিকে রাখা উচিত, যা অর্থ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ভুল কোণ বা ভুল দিকে এটি রাখলে আয়ের পথ বাধাগ্রস্ত হয়।
সতর্কতা ও সিদ্ধান্ত
প্রতিটি প্রাণীর নিজস্ব এনার্জি থাকে। তাই কোনো পোষ্য ঘরে আনার আগে বা অ্যাকোয়ারিয়ামের জায়গা বদল করার আগে বাস্তু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক দিকে সঠিক প্রাণীটি থাকলেই আপনার সংসারে বজায় থাকবে শান্তি এবং সমৃদ্ধি। অন্যথায় অজানতেই আপনার প্রিয় পোষ্যটি হয়ে উঠতে পারে অশান্তির কারণ। তাই বাস্তু মেনে সতর্ক হোন এবং আপনার প্রিয় সঙ্গীর মাধ্যমে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন (Positive Change) নিয়ে আসুন।