সনাতন ধর্মে আমরা ভক্তি ও শ্রদ্ধা (Devotion and reverence) সহকারে প্রতিদিন ঈশ্বরের আরাধনা বা নিত্য সেবা করে থাকি। প্রচলিত বিশ্বাস হলো, ঈশ্বরকে যেভাবেই ডাকা হোক না কেন, তিনি ভক্তের ডাকে সাড়া দেন। তিনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন, ভক্তের আকুল প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হন।
তবে শাস্ত্র মতে, প্রত্যেক দেব-দেবীকে সন্তুষ্ট করার জন্য আলাদা আলাদা প্রক্রিয়া বা নিয়ম (Rules and rituals) রয়েছে। যদি আমরা সেই সঠিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে পূজার্চনা করতে পারি, তবে ঈশ্বরের কৃপা বা আশীর্বাদ (Blessings) দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব।
দেবতাদের ভিন্ন পছন্দ ও নৈবেদ্য
প্রত্যেক দেবতার আরাধনার জন্য আলাদা আলাদা ফুল বা পাতার বিধান রয়েছে। যেমন, মহাদেবের পুজো বেলপাতা ছাড়া অসম্পূর্ণ, আবার মা কালী লাল জবা ফুলে (Red Hibiscus) সন্তুষ্ট হন। ঠিক একইভাবে, আমাদের ঘরে যে ইষ্টদেবতা (Presiding deity) রয়েছেন, তিনি কোন সামগ্রীতে সন্তুষ্ট হন তা জেনে রাখা অত্যন্ত আবশ্যক। এর মধ্যে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হলো তুলসী পাতা (Basil leaves)। কিন্তু অনেকেই জানেন না কোন দেবতার চরণে তুলসী দেওয়া উচিত এবং কোথায় এটি দেওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ।
কাদের চরণে তুলসী অর্পণ করা উচিত?
শাস্ত্র অনুযায়ী, তুলসী পাতা শুধুমাত্র বিষ্ণুতত্ত্বের (Vishnu-tattva) দেব-দেবীদের চরণেই অর্পণ করা যায়। আপনার গৃহের মন্দিরে যদি নিচের দেব-দেবীরা থাকেন, তবে তাঁদের পুজোয় তুলসী পাতা অবশ্যই ব্যবহার করবেন:
ভগবান শ্রীবিষ্ণু
শ্রীকৃষ্ণ
ভগবান রামচন্দ্র
শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু
শ্রী নিত্যানন্দ প্রভু
এবং ভগবান বিষ্ণুর অন্যান্য অবতারসমূহ (Incarnations)।
কোথায় তুলসী অর্পণ করা নিষিদ্ধ?
বিষ্ণুতত্ত্ব ছাড়া অন্য কোনো দেব-দেবীর চরণে তুলসী পাতা অর্পণ করা শাস্ত্রসম্মত নয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় তুলসী অত্যাবশ্যক হলেও, শ্রীমতী রাধারানির (Srimati Radharani) চরণে কিন্তু সরাসরি তুলসী পাতা অর্পণ করা যায় না। অন্যান্য দেবী বা দেবতাদের পুজোতেও তুলসী পাতা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সঠিক নিয়মে ঈশ্বরের আরাধনা করলেই পূজার সম্পূর্ণ ফল লাভ করা যায়।