সনাতন ধর্মে শ্রাবণ মাস হলো দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা ও তাঁর প্রতি ভক্তি নিবেদনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে এই পবিত্র শ্রাবণ মাস। এই পুরো মাস জুড়ে শিব মন্দিরগুলোতে উপচে পড়ে ভক্তদের ঢল। ভোলেবাবাকে সন্তুষ্ট করতে ভক্তরা জলাভিষেক, রুদ্রাভিষেক (Rudrabhishekar) থেকে শুরু করে বেলপাতা, ধুতরো ও বিভিন্ন সুগন্ধি ফুল নিবেদন করে থাকেন। বিশ্বাস করা হয়, শ্রাবণে নিয়ম মেনে ও ভক্তিভরে শিবের পুজো করলে জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং কাঙ্ক্ষিত মনস্কামনা পূর্ণ হয়।
মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় ফুল ও নৈবেদ্য
ধর্মীয় বিশ্বাস ও শাস্ত্র অনুযায়ী, কিছু বিশেষ ফুল ও পাতা মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয়। শ্রাবণ মাসে পুজো করার সময় এই জিনিসগুলো দিয়ে দেবাদিদেবের আরাধনা করলে তিনি দ্রুত প্রসন্ন হন এবং ভক্তের ওপর কৃপাবর্ষণ করেন:
পছন্দের ফুল: আকন্দ ফুল, সাদা কল্কে, জুঁই, ধুতরো ফুল এবং নীল অপরাজিতা মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয়।
পবিত্র পাতা: বেলপাতা এবং শমী গাছের পাতা শিবলিঙ্গে (Shivlinga) নিবেদন করা ভীষণ শুভ বলে গণ্য করা হয়।
বিশেষ নিয়ম: শিবলিঙ্গে সবসময় তাজা, নিখুঁত ও সুগন্ধি ফুল নিবেদন করা উচিত। বাসি বা শুকিয়ে যাওয়া ফুল দিলে পুজো অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
ভুলকনেও শিবপুজোয় নিবেদন করবেন না এই ফুল
শাস্ত্র মতে, মহাদেবের পুজোয় কেতকী ফুল (Ketaki Flower) নিবেদন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, কেতকী ফুল অভিশপ্ত, তাই এই ফুল দিয়ে পুজো করলে দেবাদিদেব রুষ্ট হতে পারেন। এছাড়া শুকিয়ে যাওয়া, ছেঁড়া, বাসি কিংবা গাছ থেকে নিজে থেকে ঝরে পড়া ফুল কখনই শিবলিঙ্গে দেওয়া উচিত নয়। এতে সংসারে অশুভ শক্তির প্রভাব বাড়ে এবং নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
মহাদেবকে প্রসন্ন করার মূল মন্ত্র
দেবাদিদেবের আরাধনায় জাগতিক উপকরণের চেয়েও বেশি প্রয়োজন মনের শুদ্ধতা,