জীবনে আইনি জটিলতা বা আদালতের (Court) চক্কর কখনো বলে-কয়ে আসে না। সাধারণ মানুষ সাধারণত থানা-পুলিশ বা আদালতের বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকতেই ভালোবাসেন। কিন্তু জীবনে কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়, যখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও আইনের দ্বারস্থ হতে হয়। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ, চাকরি সংক্রান্ত জটিলতা, দাম্পত্য কলহ কিংবা সম্পূর্ণ মিথ্যা কোনো অভিযোগের কারণেও মানুষকে আদালতের বারান্দায় জুতো ক্ষয় করতে হয়। বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র (Vedic Astrology) অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের জন্মছক বা কোষ্ঠীতে কিছু গ্রহের অশুভ অবস্থানের কারণেই এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী মামলা-মোকদ্দমা (Litigation) ও আইনি সমস্যার সৃষ্টি হয়।
আইনি জটিলতার পেছনে দায়ী কোন কোন গ্রহ?
জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রতিটি গ্রহের একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। আইনি বিবাদের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি গ্রহ সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে:
মঙ্গল গ্রহ: মঙ্গলকে বিবাদ, সংঘর্ষ, তর্ক-বিতর্ক এবং আক্রমণাত্মক (Aggressive) মনোভাবের কারক গ্রহ ধরা হয়। জন্মছকে মঙ্গল অশুভ অবস্থানে থাকলে ব্যক্তি হঠাৎ করেই কোনো বড় বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি অনেকে রেগের মাথায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি সমস্যায় পড়েন।
শনি ও রাহুর কুপ্রভাব: যদি জন্মছকে মঙ্গলের সঙ্গে শনির অশুভ যোগ তৈরি হয়, তবে আইনি জটিলতা সহজে মেটে না, বরং তা বছরের পর বছর দীর্ঘস্থায়ী (Long-lasting) রূপ নেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি কারাবাসের (Imprisonment) আশঙ্কাও বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, মঙ্গল ও রাহুর অশুভ সংযোগ থাকলে ব্যক্তি নোংরা ষড়যন্ত্র বা মিথ্যা মামলার (False Case) শিকার হন।
তবে কোষ্ঠীতে যদি দেবগুরু বৃহস্পতি শক্তিশালী (Strong) অবস্থানে এবং কেন্দ্রস্থানে থাকে, তবে জাতক শত বিপদের মধ্যেও এক প্রকার অদৃশ্য সুরক্ষা পান এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
আইনি সমস্যা অনুসারে শাস্ত্রীয় প্রতিকার
আদালতের মামলা থেকে মুক্তি পেতে এবং গ্রহের অশুভ প্রভাব কাটাতে জ্যোতিষশাস্ত্রে কিছু বিশেষ প্রতিকারের (Remedies) কথা বলা হয়েছে:
১. পরিবার বা ভাইদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ হলে: পরপর ৯টি মঙ্গলবার সকালে হনুমান মন্দিরে গিয়ে হনুমান চালিশা (Hanuman Chalisa) পাঠ করুন। এরপর মন্দিরে আগত ভক্তদের মধ্যে লুচি ও মোহনভোগ প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করুন। এতে পারিবারিক বিবাদ কমে আসে।
২. চাকরি বা কর্মক্ষেত্র সংক্রান্ত মামলা হলে: ৯টি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হনুমান মন্দিরে যান। বজরংবলীর সামনে বসে জুঁইয়ের তেল (Jasmine Oil), সিঁদুর এবং তুলসী পাতার মালা নিবেদন করুন। এরপর ‘ওঁ নমো ভগবতে রামদূতায় নমঃ’ মন্ত্রটি জপ করুন।
৩. দাম্পত্য বা বিবাহ সংক্রান্ত মামলা (Matrimonial Case) চললে: টানা ৩টি মঙ্গলবার রাতে লাল বস্ত্র পরিধান করে হনুমানজির পূজা করুন। একটি ঘিয়ের দুইমুখী প্রদীপ জ্বালিয়ে একটি মুখ দেবতার দিকে এবং অন্যটি নিজের দিকে রাখুন। তারপর ‘ওঁ হং হনুমতে নমঃ’ মন্ত্রটি জপ করুন।
৪. সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গেলে: প্রতিদিন সকালে তামার পাত্রে জল নিয়ে তাতে লাল সিঁদুর মিশিয়ে সূর্যের উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য বা জল অর্পণ (Water Offering) করুন। এরপর সূর্যের আলোয় বসে হনুমান চালিশার এই বিশেষ চৌপাইটি জপ করুন— ‘দুর্গম কাজ জগত কে জেতে, সুগম অনুগ্রহ তুমহরে তেতে’। মঙ্গলবার থেকে শুরু করে টানা ২৭ দিন এটি পালন করুন এবং প্রতি মঙ্গলবার গরুকে গুড় ও রুটি খাওয়ান।