Vastu Tips

আর্থিক বাধা কাটাতে মেনে চলুন এই নিয়ম, জানুন কোথায় এবং কীভাবে রাখবেন দেবতার সিংহাসন

blank

বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুযায়ী প্রতিটি বাড়িতে শুভ এবং অশুভ—উভয় শক্তির অস্তিত্ব থাকে। ঘরের অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে ইতিবাচক প্রভাব বাড়াতে পুজোর সিংহাসন বা মন্দিরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সঠিক নিয়ম মেনে সিংহাসন স্থাপন করলে যেমন স্বাস্থ্য ও মানসিক সমস্যার (Mental issues) সমাধান হয়, তেমনই দূর হয় আর্থিক বাধা। তবে কেবল সিংহাসন রাখলেই হবে না, বাস্তু মতে তাকে ‘জাগ্রত’ করাও বিশেষ প্রয়োজন।

সিংহাসন স্থাপনের আদর্শ নিয়ম

বাস্তুবিদদের মতে, বাড়িতে সিংহাসন স্থাপনের শ্রেষ্ঠ স্থান হলো উত্তর-পূর্ব কোণ (North-East corner) বা ঈশান কোণ। যদি কোনো কারণে সেখানে সম্ভব না হয়, তবে পূর্ব দিকে (East side) সিংহাসন রাখা যেতে পারে। মনে রাখবেন, বারবার সিংহাসনের জায়গা পরিবর্তন করা একদমই অনুচিত। সিংহাসনের জন্য হালকা হলুদ বা সাদা রঙ ব্যবহার করা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়।

দেবতার বিগ্রহ কেমন হবে?

সিংহাসনে খুব বেশি দেব-দেবীর মূর্তি রাখার প্রয়োজন নেই। বাস্তু নিয়ম অনুযায়ী, বাড়িতে যদি কোনো বিগ্রহ বা মূর্তি (Idol) স্থাপন করেন, তবে তার উচ্চতা যেন ১২ ইঞ্চির বেশি না হয়। তবে ছবির (Picture) ক্ষেত্রে আকারের কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। সিংহাসনে একটি শঙ্খ (Conch), একটি গোমতী চক্র এবং জলপূর্ণ একটি পাত্র রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ঠাকুরঘর বা সিংহাসন জাগানোর উপায়

একটি পুজোর স্থান তখনই ফলদায়ক হয় যখন সেখানে নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম পালন করা হয়। সিংহাসন জাগ্রত করার বিশেষ পদ্ধতিগুলো হলো:

  • নির্দিষ্ট সময়: প্রতিদিন পুজোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় (Specific time) বেছে নিন। সময়ের পরিবর্তনের চেয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা বাস্তুমতে বেশি কার্যকর।

  • প্রদীপের অবস্থান: সন্ধ্যার পুজোর সময় অবশ্যই প্রদীপ বা প্রদীপ শিখা (Oil lamp) জ্বালাতে হবে। প্রদীপটি সিংহাসনের ঠিক মাঝখানে স্থাপন করা উচিত।

  • মন্ত্র ও কীর্তন: পুজোর সময় ভক্তিভরে কীর্তন বা মন্ত্র জপ (Chanting) করলে পুরো বাড়ি ইতিবাচক শক্তিতে ভরে ওঠে। যদি আপনার কোনো নির্দিষ্ট গুরুমন্ত্র না থাকে, তবে নিয়মিত গায়ত্রী মন্ত্র জপ করুন।

  • পরিচ্ছন্নতা: মন্দির বা সিংহাসন সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আবশ্যিক। সেখানে রাখা জলের পাত্রটি প্রতিদিন পরিষ্কার করে নতুন জল ভরুন।

  • প্রসাদ গ্রহণ: পুজোর পর নিবেদিত প্রসাদ এবং পাত্রের জল চরণামৃত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এটি শরীরের অভ্যন্তরে আধ্যাত্মিক শক্তি সঞ্চার করে।

সিংহাসনের এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার সংসারে বাধা-বিপত্তি কেটে গিয়ে সুখ ও সমৃদ্ধি (Prosperity) নিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *