হিন্দুধর্মে সূর্যগ্রহণকে কেবল একটি মহাজাগতিক ঘটনাই নয়, বরং একটি অশুভ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রহণের সময় প্রকৃতিতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বেড়ে যায়, যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে আমাদের শরীর ও মনের ওপর। বাস্তুশাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় মতে, এই নেতিবাচক শক্তি থেকে রক্ষা পেতে তুলসী পাতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারে তুলসী পাতা দেওয়ার মাহাত্ম্য
আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টা ৩১ মিনিট থেকে সন্ধে ৭টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত সূর্যগ্রহণ চলবে। যদিও এই গ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান নয়, তবুও শাস্ত্রীয় নিয়ম মানার চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই।
বলা হয়, গ্রহণের ক্ষতিকর বিকিরণ বা ‘নেগেটিভ এনার্জি’ সবার আগে খাবার ও জলকে দূষিত করে। তুলসী পাতাকে অত্যন্ত পবিত্র ও ঔষধি গুণসম্পন্ন মনে করা হয়, যা এই নেতিবাচক শক্তিকে শোষণ করে খাবারকে শুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
-
আগেভাগেই সতর্কতা: গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই রান্না করা খাবার, দুধ, দই, আচার এবং পানীয় জলে তুলসী পাতা দিয়ে রাখুন।
-
বিকল্প ব্যবস্থা: যদি কোনো খাবারে তুলসী পাতা দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে গ্রহণের পর সেই খাবার না খাওয়াই ভালো। শাস্ত্র মতে, দূষিত খাবার খেলে শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে।
গ্রহণ মিটে গেলে যা করা জরুরি (শুদ্ধিকরণ পদ্ধতি)
গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বাড়ি এবং নিজেকে শুদ্ধ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
১. ঘরবাড়ি পরিষ্কার: গ্রহণ মিটলে নুন-জল দিয়ে পুরো বাড়ি মুছে নিন। ঘরের দরজা-জানলা খুলে দিন যাতে বিশুদ্ধ বাতাস ও ইতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে। ২. গঙ্গাজলে স্নান: স্নানের জলে সামান্য গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান সেরে নিন। এতে মন ও শরীর দুই-ই শুদ্ধ হয়। ৩. গৃহশুদ্ধি: স্নানের পর একটি পাত্রে গঙ্গাজল ও সামান্য কর্পূর মিশিয়ে নিন। দুর্বা ঘাস বা আম্রপল্লব দিয়ে সেই জল ঠাকুরঘর, রান্নাঘর ও মূল প্রবেশদ্বারে ছিটিয়ে দিন। এটি বাস্তুদোষ কাটাতে সাহায্য করে। ৪. ধূপ ও আরতি: সারা বাড়িতে কর্পূরের ধোঁয়া দিন। পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দেব-দেবীর মূর্তি মুছে ঘি-এর প্রদীপ ও ধূপকাঠি জ্বালান। এতে নেতিবাচক শক্তি দূর হয়ে ঘরে শান্তি বজায় থাকে।