প্রায় প্রতিটি হিন্দু গৃহস্থ বাড়িতেই ঈশ্বর আরাধনার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান বা ঠাকুরঘর থাকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন যে, ভক্তিভরে নিত্যপূজা করলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি (Prosperity) বজায় থাকে। তবে বাস্তুশাস্ত্রবিদদের মতে, ভক্তি থাকলেও যদি সঠিক নিয়ম না মানা হয়, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে। ঠাকুরঘরে দেবদেবীর মূর্তির অবস্থান বা ধরন সামান্য ভুল হলেও সংসারে ঘোর অমঙ্গল (Misfortune) নেমে আসতে পারে।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠাকুরঘরের সঠিক অবস্থান এবং দেবদেবীর বিন্যাস নিয়ে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি:
-
সঠিক দিক নির্বাচন (Direction): বাড়ির ঈশান কোণ (North-East corner) দেবদেবীর জন্য সবচেয়ে শুভ। এছাড়া পূর্ব বা উত্তর দিকের দেওয়ালেও বিগ্রহ বা ছবি রাখা যেতে পারে। ভুল দিকে সিংহাসন রাখলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
-
হনুমানজি ও শনিদেব: শাস্ত্র অনুযায়ী, হনুমানজি এবং শনিদেবকে (Lord Shani) একই সঙ্গে বা পাশাপাশি রাখা উচিত নয়। হনুমানজি হলেন রক্ষাকর্তা, কিন্তু এই দুই দেবতাকে পাশাপাশি রাখলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া (Adverse reaction) তৈরি হতে পারে।
-
ভয়ংকর রূপ বর্জন: ঠাকুরঘরে দেবদেবীর অত্যন্ত উগ্র বা ভয়ংকর রূপের ছবি কিংবা বিগ্রহ রাখা অনুচিত। বিশেষ করে মা কালীর অত্যন্ত রণচণ্ডী মূর্তি গৃহস্থের অশান্তির কারণ হতে পারে। সবসময় শান্ত ও আশীর্বাদধন্য মুদ্রা (Pose) আছে এমন ছবি রাখা শ্রেয়।
-
একাধিক শিবলিঙ্গ: একই সিংহাসনে বা মন্দিরে কখনো দুটি শিবলিঙ্গ (Shivling) রাখবেন না। এতে সংসারের সুখ-শান্তির ভারসাম্য (Balance) নষ্ট হতে পারে।
-
একই দেবতার একাধিক বিগ্রহ: বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, সিংহাসনে একই দেবদেবীর একাধিক মূর্তি বা ছবি রাখা অমঙ্গলের কারণ হতে পারে। যদি আপনার কাছে একাধিক ছবি থাকে, তবে অতিরিক্ত ছবিগুলো কোনো মন্দিরে দান করে দিন অথবা শাস্ত্রীয় তিথি (Auspicious time) মেনে বিসর্জন বা নিরঞ্জন দিন ।