বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতিতে প্রায় প্রতিটি গৃহস্থ (Household) বাড়িতেই আলাদা করে দেবদেবীর আরাধনার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান বা ঠাকুরঘর থাকে। সেখানে নিত্যদিনের পূজার্চনা (Daily Worship) করা হয় এই বিশ্বাসে যে, এর মাধ্যমে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি এবং শান্তি বজায় থাকবে। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্রবিদদের (Vastu Experts) মতে, পূজার্চনার সময় সামান্য ভুল বা দেবতার সিংহাসনে বিগ্রহ স্থাপনে অসতর্কতা বড়সড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
কোন দিকে রাখবেন ঠাকুরঘর? বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ বা ঈশান কোণ (Northeast Corner) সবচেয়ে বেশি মঙ্গলময়। দেবতার সিংহাসন রাখার জন্য এটিই আদর্শ স্থান। অন্য কোনো দিকে ঠাকুরঘর স্থাপন করলে সংসারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
হনুমানজি ও শনিদেব: এক সঙ্গে নয় বাস্তুবিদদের মতে, বজরংবলী বা হনুমানজি এবং শনিদেবকে কখনোই একই সঙ্গে বাড়িতে রাখা উচিত নয়। হনুমানজিকে ধরা হয় রক্ষাকর্তা (Protector), আর শনিদেব ন্যায়ের দেবতা হলেও এই দুজনকে পাশাপাশি রাখলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া (Adverse Reaction) দেখা দিতে পারে। তাই আপনার সিংহাসনে এদের একত্রে স্থান না দেওয়াই শ্রেয়।
ভয়ংকর মূর্তি এড়িয়ে চলুন ঠাকুরঘরে দেবদেবীর উগ্র বা ভয়ংকর কোনো ছবি কিংবা বিগ্রহ (Idol) রাখা উচিত নয়। বিশেষ করে মা কালীর অত্যন্ত রাগান্বিত বা রণংদেহী মূর্তি বাড়িতে রাখলে সংসারে অশান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সবসময় দেবতার শান্ত ও আশীর্বাদ প্রদানকারী ছবি বেছে নিন।
একই দেবতার একাধিক বিগ্রহ নয় বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়েছে, একই সিংহাসনে (Throne/Altar) একই দেবদেবীর একাধিক ছবি বা বিগ্রহ রাখা অমঙ্গলের লক্ষণ। এমনকি একই সিংহাসনে দু’টি শিবলিঙ্গ (Shivalinga) রাখাও নিষিদ্ধ। এটি গৃহের সুখ-শান্তির ভারসাম্য নষ্ট করে এবং নিত্যদিনের কলহের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রতিকার কী? যদি আপনার বাড়িতে একই দেবতার একাধিক বিগ্রহ থাকে, তবে সেগুলো কাছাকাছি কোনো মন্দিরে (Temple) দান করে দিতে পারেন অথবা শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে জলাশয়ে নিরঞ্জন (Immersion) করতে পারেন। তবে নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে অবশ্যই শুভ তিথি (Auspicious Time) দেখে নেওয়া জরুরি, নতুবা উপকারের চেয়ে অপকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।