আমরা অনেকেই ঘরের অন্দরসজ্জা বা বাইরের রং নিয়ে ভীষণ সচেতন, কিন্তু বাড়ির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ছাদ’ অবহেলায় পড়ে থাকে। বাড়ি তৈরির বাড়তি রড, ভাঙা কাঠ কিংবা পুরোনো আসবাবের আস্তানা হয় এই ছাদ। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, এই সামান্য অবহেলাই আপনার জীবনের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ছাদ হলো শক্তির মূল কেন্দ্র; এখানে জঞ্জাল জমা মানে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহকে থামিয়ে দেওয়া।
ছাদ থেকে অবিলম্বে যা সরিয়ে ফেলা উচিত:
-
পুরোনো জঞ্জাল ও ভাঙা আসবাব: জং ধরা লোহা, ভাঙা চেয়ার বা অচল ফ্যান ছাদে রাখা মানে ‘স্থবির শক্তি’কে আমন্ত্রণ জানানো। এটি পরিবারে মানসিক চাপ, অশান্তি এবং আর্থিক অনটন তৈরি করে। মাসে অন্তত একবার ছাদ পরিষ্কার করুন এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিদায় করুন।
-
অচল বা লিক করা জলের ট্যাঙ্ক: বাস্তু মতে, স্থির বা লিক করা জল মানেই উন্নতিতে বাধা। এটি কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং অনিদ্রা এবং মানসিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত ট্যাঙ্ক পরিষ্কার রাখুন বা প্রয়োজনে বদলে ফেলুন।
-
ঝাঁটা ও পরিষ্কারের সামগ্রী: জায়গা বাঁচাতে অনেকেই ঝাঁটা বা মোছার কাপড় ছাদে রাখেন। শাস্ত্র মতে, খোলা আকাশের নিচে এসব রাখা লক্ষ্মীর অবমাননার সমান। এতে কর্মজীবনে বাধা আসে। এসব জিনিস সবসময় আড়ালে বা নির্দিষ্ট স্টোররুমে রাখুন।
-
ভাঙা মূর্তি ও ধর্মীয় সামগ্রী: ফাটা মূর্তি বা দেব-দেবীর ছেঁড়া ছবি ছাদে ফেলে রাখবেন না। এটি বাড়ির আধ্যাত্মিক ভারসাম্য নষ্ট করে। নিয়ম মেনে এগুলো বিসর্জন দিয়ে স্থানটি গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করে নিন।
আদর্শ ছাদ কেমন হওয়া উচিত? আপনার ছাদ হওয়া উচিত পরিষ্কার, উন্মুক্ত এবং আলো-বাতাসপূর্ণ। সেখানে তুলসী, অ্যালোভেরা বা মানিপ্ল্যান্টের মতো গাছ লাগাতে পারেন। সম্ভব হলে ধ্যানের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা রাখুন। মনে রাখবেন, ছাদ যত পরিষ্কার থাকবে, আপনার চিন্তাভাবনা এবং ভাগ্য ততটাই স্বচ্ছ হবে।