Vastu Tips

ঈশান কোণে শৌচাগার ডেকে আনছে চরম বিপদ? বিনা খরচে বাস্তুদোষ কাটানোর সহজ উপায়

blank

আমাদের বসতভিটার প্রতিটি কোণ কোনো না কোনো শক্তির আধার। বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুযায়ী, বাড়ির উত্তর-পূর্ব বা ঈশান কোণ হলো সবচেয়ে পবিত্র স্থান। কিন্তু আধুনিক ফ্ল্যাট কালচার বা জায়গার অভাবে অজান্তেই অনেকে এই কোণে শৌচাগার (Toilet) তৈরি করে ফেলেন। যখন জীবনের একের পর এক সমস্যা শুরু হয়, তখন আমরা বুঝতে পারি যে গৃহের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। বাস্তুবিদদের মতে, ঈশান কোণে বাথরুম থাকা একটি গুরুতর বাস্তুদোষ, যা জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।

কেন এই স্থানটি এত স্পর্শকাতর?

শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, বাস্তু পুরুষের মস্তক এই ঈশান কোণেই অবস্থিত। এটি বাড়ির প্রধান ইতিবাচক শক্তির প্রবেশদ্বার (Gateway of Positive Energy)। এই পবিত্র স্থানে নোংরা বা শৌচাগার থাকলে পজিটিভ এনার্জি ঘরে ঢোকার আগেই নেতিবাচক শক্তিতে (Negative Energy) রূপান্তরিত হয়। যেহেতু এই কোণটি দেবস্থান হিসেবে গণ্য, তাই এখানে ঠাকুরঘর থাকাই বিধেয়। ঈশান কোণে শৌচাগার থাকলে সংসারে চিরস্থায়ী অশান্তি, কঠিন রোগভোগ এবং চরম আর্থিক অনটন (Financial Crisis) লেগেই থাকে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশন (Depression) হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

ব্যয়বহুল প্রতিকার বনাম আধ্যাত্মিক পথ

বাস্তুদোষ কাটাতে অনেকেই দামী যন্ত্র বা পিরামিড (Pyramid) বসানোর পরামর্শ দেন, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। আবার অনেক ক্ষেত্রে আকাশছোঁয়া খরচ করেও ১০০ শতাংশ সুফল পাওয়ার গ্যারান্টি (Guarantee) থাকে না। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রাচীন আধ্যাত্মিক পথই হতে পারে পরম আশ্রয়। বিখ্যাত মহারাজ ও আধ্যাত্মিক গুরুদের মতে, বাড়ির গঠন যেমনই হোক না কেন, যদি সেখানে নিয়মিত দেব-আরাধনা চলে, তবে কোনো অশুভ শক্তি সেখানে টিকতে পারে না।

বিশেষ করে ‘হনুমান চালিশা’ (Hanuman Chalisa) পাঠ এই ধরনের গুরুতর বাস্তুদোষ কাটাতে অব্যর্থ বলে মনে করা হয়। প্রতিদিন ভক্তিভরে হনুমান চালিশা পাঠ করলে ঘরের পরিবেশে আমূল পরিবর্তন আসে। কোনো দামী পাথর বা রত্ন যা করতে পারে না, নিয়মিত নাম জপ এবং ভজন সেই অসাধ্য সাধন করতে পারে। ঈশ্বরের নাম যেখানে উচ্চারিত হয়, সেখানে বাস্তু দোষের কুপ্রভাব স্থায়িত্ব পায় না। তাই ভাঙাভাঙির দুশ্চিন্তা ছেড়ে ভক্তি ও পূজাপাঠের মাধ্যমে ঘরের পজিটিভ ভাইব বাড়িয়ে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *