সনাতন ধর্মে তুলসী গাছকে কেবল একটি উদ্ভিদ হিসেবে নয়, বরং দেবী লক্ষ্মীর প্রতিরূপ হিসেবে পূজা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, যেখানে তুলসী তলা পবিত্র রাখা হয়, সেখানে মা লক্ষ্মী ও ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ সর্বদা বজায় থাকে। তবে প্রকৃতির নিয়মে অনেক সময় তুলসী গাছ শুকিয়ে যায়। আর এই শুকনো গাছ নিয়ে আমাদের করা ছোট একটি ভুল সংসারে বড় বিপদ বা আর্থিক অনটন ডেকে আনতে পারে।
শুকনো তুলসী গাছ কি যত্রতত্র ফেলা যায়?
অনেকেই তুলসী গাছ শুকিয়ে গেলে তা সাধারণ বর্জ্যের সাথে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। শাস্ত্র মতে, এটি অত্যন্ত অশুভ এবং দেবীর অবমাননার সমান। গাছ শুকিয়ে গেলে তা নিয়ম মেনে বিসর্জন দেওয়াই বিধেয়।
তুলসী বিসর্জনের শাস্ত্রীয় নিয়ম ও সময়
শুকনো তুলসী গাছ সরানোর জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
-
শুভ দিন: শুকনো গাছ তোলার জন্য বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার সবচেয়ে উপযুক্ত দিন।
-
নিষিদ্ধ সময়: রবিবার, একাদশী তিথি বা চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সময় ভুলেও তুলসী গাছ স্পর্শ করবেন না বা বিসর্জন দেবেন না।
-
মন্ত্র জপ: গাছটি শিকড়সহ তোলার সময় মনে মনে ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্রটি জপ করুন।
-
বিসর্জন পদ্ধতি: শুকনো গাছটি ডাস্টবিনে না ফেলে পবিত্র কোনো নদী বা জলাশয়ে বিসর্জন দিন। যদি কাছাকাছি নদী না থাকে, তবে বাড়ির পরিষ্কার কোনো স্থানে গর্ত খুঁড়ে গাছটি পুঁতে দিন। এতে মাটির উর্বরতাও বাড়ে।
পুরানো মাটির সঠিক ব্যবহার
তুলসী গাছ যে টবে ছিল, সেই মাটি অত্যন্ত পবিত্র। এই মাটি ফেলে না দিয়ে তাতে সামান্য গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন। এরপর সেখানে একটি নতুন তুলসী চারা রোপণ করুন। এছাড়া এই মাটি অন্য কোনো ফুল গাছেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
তুলসী গাছ সতেজ রাখার অব্যর্থ টোটকা
আপনার বাড়ির তুলসী গাছ কি বারবার শুকিয়ে যাচ্ছে? তবে এই সহজ প্রতিকারগুলো করে দেখতে পারেন:
-
কাঁচা দুধের ব্যবহার: গাছের শিকড়ে নিয়মিত পরিমিত জল দেওয়ার পাশাপাশি মাঝে মাঝে অল্প কাঁচা দুধ নিবেদন করুন। এতে গাছ সতেজ থাকে এবং দেবী লক্ষ্মী প্রসন্ন হন।
-
সঠিক দিক: তুলসী গাছ সর্বদা বাড়ির উত্তর বা উত্তর-পূর্ব (ঈশান কোণ) দিকে রাখার চেষ্টা করুন।
-
পরিচ্ছন্নতা: তুলসী তলার আশেপাশে যেন কোনো ময়লা, আবর্জনা বা কাঁটাযুক্ত গাছ না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।