Vastu Tips

মনে অশান্তি আর টাকার টান? বালিশের নীচে এই জিনিস রাখলে মিলতে পারে স্বস্তি

blank

ঘুম যে শুধুমাত্র শারীরিক বিশ্রামের জন্য জরুরি, তা নয়। জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) ও বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুযায়ী, ঘুম মানুষের জীবনে শুভ শক্তির প্রবাহ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, সঠিক পরিবেশে ঘুমোলে যেমন মানসিক শান্তি বাড়ে, তেমনই নেতিবাচক শক্তি দূরে থাকে এবং জীবনে সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হয়।

বাস্তুমতে রাতে ঘুমোনোর সময় বালিশের নীচে কিছু নির্দিষ্ট জিনিস রাখা শুভ বলে মনে করা হয়। এতে ঘুমের মান উন্নত হয়, দুশ্চিন্তা কমে এবং আর্থিক অনটন ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করে। জেনে নিন কোন কোন জিনিস বালিশের নীচে রাখলে কী উপকার পাওয়া যায়।

ধর্মগ্রন্থ বা মন্ত্র লেখা কাগজ

বালিশের নীচে ধর্মীয় গ্রন্থ (Religious Text) রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা, রামায়ণের শ্লোক বা মন্ত্র লেখা কাগজ বালিশের নীচে রাখতে পারেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এতে মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়, ভয় ও দুঃস্বপ্ন কমে। ‘ওম নমঃ শিবায়’ কিংবা ‘ওম হ্রিম ক্লীম শ্রীম’ এর মতো বীজ মন্ত্র কাগজে লিখে লাল কাপড়ে মুড়িয়ে বালিশের নীচে রাখলে সুফল পাওয়া যায়।

লবঙ্গ এবং এলাচ

আয়ুর্বেদ (Ayurveda) ও বাস্তুশাস্ত্র দু’টিতেই লবঙ্গ এবং এলাচকে শুভ উপাদান বলা হয়েছে। এগুলি মনকে শান্ত রাখে এবং নেতিবাচক শক্তি দূর করে। গভীর ঘুমে সাহায্য করে এবং সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বাড়ায়। একটি ছোট পাত্রে ২টি লবঙ্গ ও ১টি সবুজ এলাচ রেখে বালিশের নীচে রাখুন। প্রতি ৭ দিন অন্তর তা বদলানো উচিত।

লেবু বা ফিটকিরি

তান্ত্রিক বিশ্বাস অনুযায়ী লেবু (Lemon) ও ফিটকিরি (Alum) খারাপ দৃষ্টি ও নেতিবাচক শক্তি দূর করতে সাহায্য করে। এতে দুঃস্বপ্ন কমে এবং মানসিকভাবে হালকা অনুভব হয়। রাতে বালিশের নীচে একটি লেবু অথবা ছোট একটি ফিটকিরি রেখে শুয়ে পড়ুন। সকালে উঠে তা প্রবাহিত জলে ফেলে দিন।

তামা বা রুপোর মুদ্রা

তামা (Copper) ও রুপো (Silver) সম্পদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। বিশ্বাস অনুযায়ী এগুলি শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং আর্থিক সঙ্কট কমাতে সাহায্য করে। দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ আকর্ষণ করে বলে মনে করা হয়। একটি পুরোনো তামা বা রুপোর মুদ্রা হলুদ বা সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে বালিশের নীচে রাখতে পারেন।

কর্পূর

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত কর্পূর (Camphor) বাস্তুমতে নেতিবাচক শক্তি নাশ করে। এটি উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমায় এবং ঘরের পরিবেশ শুদ্ধ রাখে। রাতে খারাপ স্বপ্ন দেখা থেকেও রক্ষা করে। বালিশের নীচে কর্পূরের একটি ছোট টুকরো রাখুন। গন্ধ বেশি লাগলে কাপড়ে মুড়িয়ে নিতে পারেন।

রসুনের কোয়া

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী রসুনের কোয়া (Garlic Clove) দুঃস্বপ্ন ও অজানা ভয় দূর করে। এটি ঘরে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশে বাধা দেয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে উপকারী বলে মনে করা হয়। একটি রসুনের কোয়া খোসা ছাড়িয়ে সাদা রুমালে মুড়িয়ে বালিশের নীচে রাখলে সুফল পাওয়া যায়।

নীল কালিতে লেখা ইতিবাচক কথা

নেতিবাচক চিন্তা বা মানসিক অস্থিরতায় ভুগলে এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। একটি সাদা কাগজে নীল কালিতে (Blue Ink) নিজের ভালো থাকা বা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে এমন কথা লিখে রাখুন। ওই কাগজ বালিশের নীচে রেখে ঘুমোলে অবচেতন মনে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার হয় বলে বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *