সংখ্যাতত্ত্ব (Numerology) অনুযায়ী, প্রতিটি সংখ্যার একজন নির্দিষ্ট শাসক গ্রহ (Ruling Planet) থাকে, যা সেই ব্যক্তির চরিত্র ও ভাগ্য নির্ধারণ করে। প্রচলিত বিশ্বাস এবং সংখ্যাতত্ত্বের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাসের একটি বিশেষ তারিখকে সবথেকে শক্তিশালী (Powerful) বলে মনে করা হয়। বলা হয়, এই দিনে যারা জন্মগ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে দেশ শাসন করার বা নেতৃত্ব দেওয়ার এক অদম্য ক্ষমতা থাকে।
১ ও ৯ সংখ্যার জাদুকরী শক্তি
সংখ্যাতত্ত্বে ১ এবং ৯—এই দুটি সংখ্যাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শক্তিশালী বলে ধরা হয়। মাসের যে কোনো তারিখে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তির জন্মতারিখের যোগফলকে একক সংখ্যায় আনলে যা পাওয়া যায়, তাকেই বলা হয় মূলাঙ্ক (Radix)। এই মূলাঙ্ক থেকেই একজন মানুষের জীবনের গোপন রহস্য জানা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ সংখ্যাটির অধিপতি স্বয়ং সূর্য (Sun)। সূর্য হলো সাফল্য, খ্যাতি (Fame), সুস্বাস্থ্য এবং আত্মবিশ্বাসের (Self-confidence) প্রতীক। অন্যদিকে, ৯ সংখ্যাটির অধিপতি হলো মঙ্গল (Mars)। মঙ্গল আগুনের প্রতীক এবং এটি সাহস, শক্তি, ভূমি ও সম্পদের প্রতিনিধিত্ব করে।
সবচেয়ে শক্তিশালী তারিখ: ১৯
যখন সূর্যের ১ এবং মঙ্গলের ৯—এই দুই মহাশক্তি মিলিত হয়ে ১৯ তারিখটি গঠিত হয়, তখন তা হয়ে ওঠে মাসের সবচেয়ে শক্তিশালী তিথি। সংখ্যাতত্ত্বের নিয়মে ১ এবং ৯ যোগ করলে হয় ১০, যার একক সংখ্যা বা মূলাঙ্ক হলো ১। অর্থাৎ, ১৯ তারিখে জন্মানো ব্যক্তিদের মূলাঙ্ক ১, যার অধিপতি সূর্য। বর্তমান সময় বা বছরটিও যদি সূর্যের প্রভাবাধীন হয়, তবে এই শক্তির মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
১৯ তারিখে জন্মগ্রহণকারীদের বৈশিষ্ট্য
যাঁদের জন্মদিন ১৯ শে (19th), তাঁরা সাধারণ মানুষের চেয়ে একটু আলাদা হন। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে তাঁদের কিছু বিশেষ গুণ থাকে:
-
নেতৃত্বের গুণ (Leadership Qualities): এঁরা জন্মগতভাবেই নেতা। যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা এঁদের মধ্যে থাকে।
-
দৃঢ় ব্যক্তিত্ব (Strong Personality): এঁদের ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দৃঢ় হয়। সামাজিক পরিসরে এঁরা বিশেষ সম্মান (Respect) ও স্বীকৃতি লাভ করেন।
-
উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সাফল্য: ১৯ তারিখে জন্মানো ব্যক্তিরা অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী (Ambitious) হন। চাকরি হোক বা ব্যবসা, এঁরা বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলার ক্ষমতা রাখেন এবং জীবনের উচ্চপদে আসীন হন।
-
অহংকারহীন সাফল্য: আকাশচুম্বী সাফল্য ও খ্যাতি অর্জন করলেও, ১৯ তারিখে জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যে সাধারণত অহংকার দানা বাঁধতে পারে না। এঁরা সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও মাটির মানুষ হয়ে থাকতেই পছন্দ করেন।
তাই সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে, ১৯ তারিখে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা কেবল ধনীই হন না, বরং সমাজে রাজার মতো প্রতাপ ও সম্মানের সাথে জীবন অতিবাহিত করেন।